ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের আন্দিদিলের শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আশুগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। শনিবার নিহতের মা মনিরা আক্তার বাদী হয়ে চাচা জাহিদুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করে। এদিকে শুক্রবার রাতে ময়নাতদন্তের পর গতকাল দিবাগত রাত ১টার দিকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয় মাহিদার নিথর দেহ। নৃশংস এ ঘটনায় গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ৭ বছর বয়সী শিশুর এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। ঘাতক চাচার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান স্থানীয়রা। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার জাহিদুল পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে পাঠানোর পর শনিবার বিকালে আদালতে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহরের আন্দিদিল গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মোজাম্মেল মিয়ার চার সন্তানের মধ্যে মেজো মাহিদা। পড়াশোনা করতেন ফাতেমাতুন্নেছা বালিকা মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে। গত বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটিতে মায়ের সঙ্গে বাড়িতে এসেছিলেন। কে জানতো এই ছুটিই হবে তার জীবনের চিরবিদায়ের ছুটি। শুক্রবার তার মা অসুস্থ ছোট ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন তালশহর বাজারে। অভিযোগ রয়েছে এই সুযোগে (চাচাতো) চাচা মো. জাহিদুল পানি দেয়ার কথা বলে ডেকে নেয় মাহিদাকে। এরপর তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করে। দুপুরে মাহিদার মা ঘরে ফেরার পর মাহিদাকে খুঁজে না পেয়ে জাহিদুলের ঘরে গিয়ে খোঁজ করতে থাকে। একপর্যায়ে জাহিদুলের অসংলগ্ন আচরণে সন্দেহ হলে জাহিদুলের ঘরের পাশের ঘর থেকে মাহিদাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে।
এরপর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। চিকিৎসক জানান, মাহিদার শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পরপর উত্তেজিত জনতা জাহিদুলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আটক জাহিদুল ওই গ্রামের মৃত মো. শাহ আলমের ছেলে। আশুগঞ্জ থানার ওসি একেএম সফিকুল আলম চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে জাহিদুল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনাটির দ্রুত বিচারকাজ শেষ করতে পুলিশ কাজ করছে।
