রোগীর মৃত্যু ঘিরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংঘর্ষ, আটক ৩

ফন্ট সাইজ:

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর মৃত রোগীর ছেলেসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৩ নম্বর ইউনিটে এ ঘটনা ঘটে। মৃত রোগীর নাম আতিয়ার শেখ (৬৫)। তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সাঁওতা গ্রামের বাসিন্দা। রোগীর স্বজনদের ভাষ্য, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত অবস্থায় আতিয়ার শেখকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার ইসিজি করানোর পরামর্শ দেন। তবে ইসিজি করানোর প্রস্তুতি নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। এতে চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বজনরা। একপর্যায়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।

স্বজনদের অভিযোগ, রোগীকে এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তরে দীর্ঘসূত্রতা হওয়ায় সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা যায়নি। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেয়ার পর পরই রোগীর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং কয়েকজনকে মারধর করেন। এদিকে, প্রথম দফার উত্তেজনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা চত্বরে জড়ো হন। পরে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। তবে রোগীর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. আকুল উদ্দিন বলেন, রোগী অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন। চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর পর পরই তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল না। তিনি বলেন, রোগীর স্বজনদের মারধরে কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত রোগীর ছেলেসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।