কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের রাজাপুর-খয়েরপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে হালিম সরদার (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বিলের দিকে যাওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে ছোড়া দেশীয় অস্ত্র ফালা গলায় বিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বকুল সরদার (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খয়েরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হালিম সরদার ওই এলাকার মৃত কলম সরদারের ছেলে। গ্রেপ্তার বকুল সরদার একই এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সকালে হালিম সরদার বাড়ি থেকে বের হয়ে চাপাইগাছি বিলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে স্থানীয় নজরুলের বাড়ির ছাদ থেকে তাকে লক্ষ্য করে একটি ফালা ছোড়া হয়। সেটি তার গলায় বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের ব্যাটারি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজাপুর-খয়েরপুর এলাকায় কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে মান্নান মেম্বার ও বকুল সমর্থিত পক্ষের সঙ্গে ইউসুফ মেম্বার ও মেহেদী সমর্থিত পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এরই মধ্যে উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, শনিবার ভোরে চাপাইগাছি বিলের পাশে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষের জন্য জড়ো হন। এ সময় ওই এলাকায় যাওয়ার পথে হালিম সরদারকে লক্ষ্য করে নজরুলের বাড়ির ছাদ থেকে ফালা ছোড়া হয়। ফালাটি তার গলায় বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বকুল সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, খয়েরপুর এলাকায় দুই পক্ষের বিরোধে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
