কুমিল্লার মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় একই পরিবারের নিখোঁজ চার সদস্যের মধ্যে তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। তবে পরিবারের প্রধান হেলাল উদ্দিন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে, শনিবার দুই দফায় তিনজনের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। স্বজনদের গগনবিদারী আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস ও প্রকৃতি। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের পরিবারে উপার্জন করার মতো আর কেউ রইলো না। দুই ছেলে ও মেয়ের লাশের পাশে মূর্ছা যান দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা হেলালের স্ত্রী শিরিনা আক্তার। তিনি জানান, আমার স্বামী এখনো নিখোঁজ। আমার পরানের ধন দুই ছেলেকে দাফন করেছি, মেয়েকেও স্বামীর বাড়িতে দাফন করেছে। আমার পৃথিবীতে আর কেউ রইলো না। আপনারা যদি আমার স্বামীকে উদ্ধার করে দেন, ১০ বাপ-ভাইয়েরা যদি আমার সহযোগী হন, তবেই আমি বেঁচে থাকতে পারবো। তিনি পরিবারের স্বজনদের বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান।
শিরিনা আক্তারের সঙ্গে বেঁচে ফেরা একমাত্র মেয়ে লামিয়া (৬)কে তিনি একটি কাঠের টুকরো দিয়ে বলেছিলেন, মায়ের কাপড় আর এই কাঠের টুকরো ধরে থাকো। মা বাঁচলে তুমিও বাঁচবা। এভাবেই মায়ের কাপড় ধরে তীরে ভেসে উঠে বেঁচে যায় লামিয়া।
শ্রীমদ্ধি গ্রামের তরুণ সমাজসেবক মো. কাউসার আহমেদ জানান, হেলাল মিয়া কৃষিকাজ ও অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আর লেখাপড়ার পাশাপাশি পিতাকে সহযোগিতা করতেন তার বড় সন্তান সজিব। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে পরিবারটি বিরাট ক্ষতির মুখে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। হেলাল উদ্দিনের পরিবারের এক আত্মীয় ফিরোজ মিয়া জানান, গত বৃহস্পতিবার সাড়ে ৩টার দিকে শ্রীমদ্ধি গাঙ্গকুল বাড়ির ঘাট থেকে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার হারিয়া গ্রামে এক আত্মীয়ের বিয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন হেলাল মিয়ার পরিবারের ৬ জনসহ আরও ৭ জন আত্মীয়।
এর মধ্যে ট্রলারডুবিতে হেলালের স্ত্রী শিরিনা আক্তার ও তার মেয়ে লামিয়াসহ ৯ জন তীরে ভিড়ে প্রাণে বেঁচে ফিরে। কিন্তু এদের মধ্যে হেলালের জ্যাঠস রায়েসা বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মারা যান। এরপর থেকেই হেলাল উদ্দিনসহ তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকাল ৭টার দিকে আসে হেলাল উদ্দিনের মেয়ে সামিয়ার (১৭) লাশ। স্বামীর বাড়ি বাঞ্ছারামপুরের কালিকাপুরে তাকে দাফন করা হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সজিব হোসেন (২৪) ও শামিম হোসেনের (৫) মরদেহ শ্রীমদ্ধি গ্রামে আসে। পরে জানাজা শেষে শ্রীমদ্ধি চরেরগাঁও কবরস্থানে তাদেরও দাফন করা হয়। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হেলাল উদ্দিন। তাকে উদ্ধারে স্বজনরা অপেক্ষায় রয়েছেন।
