কুষ্টিয়ায় নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে গভীর রাতে মিরপুর থানায় হাজির হয়েছিলেন জামায়াত-বিএনপি’র আট নেতাকর্মী। পুলিশের কাছে বারবার তদবির এবং আসামিকে ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ দেয়ার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত তাদেরই আটক করা হয়।
শনিবার রাত ২টার দিকে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মুচলেকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দুই দলের নেতাদের জিম্মায় ৮জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মো. মারুফ (২১), বাশার (৩৫), মফিজুল প্রামাণিক (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), বাদল প্রামাণিক (৫০), বিএনপি নেতা মেহেরুল ইসলাম (৪৫) এবং বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত শহীদুল ইসলাম (৫৩)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিথলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজকে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে মিরপুর থানায় নিয়ে আসা হয়।
হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ২টার দিকে সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই আটজন থানায় যান। সেখানে তারা হাফিজুরকে ছেড়ে দেয়ার জন্য পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন এবং একপর্যায়ে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। পুলিশের ভাষ্য, তাদের একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তারা তদবির চালিয়ে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একপর্যায়ে তদবির করতে আসা ব্যক্তিদেরই আটক করা হয়। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নাশকতা মামলার আসামি হাফিজুর রহমানকে আটকের পর কয়েকজন ব্যক্তি থানায় এসে তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য তদবির করেন। নিষেধ করার পরও তারা বারবার একই কথা বলায় একপর্যায়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মুচলেকা নেয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট দলের নেতাদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
