নেত্রকোণায় নিখোঁজ নারীর লাশ উদ্ধার, স্বামী গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

নেত্রকোণায় নিখোঁজের ছয়দিন পর নাজু আক্তার খাতুন (৩৪) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার সাবেক স্বামী মো. নুরুল আমিনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে নাজু আক্তারকে হত্যার পর লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেছেন নুরুল। নাজু নেত্রকোণা সদর উপজেলার কাটলী এলাকার মো. ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। নুরুল একই উপজেলার নগুয়া কুশলগাঁও এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাজু নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই মো. শুভ গত ২২শে সেপ্টেম্বর নেত্রকোণা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের একপর্যায়ে নাজুর সাবেক স্বামীকে সন্দেহজনক হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে জানান, ১৯শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কীটনাশক কেনার জন্য তিনি নেত্রকোণা শহরে এসেছিলেন।

পরে নাজু তাকে ফোন করলে তারা বড়বাজার এলাকায় দেখা করেন। এ সময় নাজু তার মুঠোফোন নিয়ে নেন এবং দু’জনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের সরিয়ে দেন। পুলিশের কাছে নুরুলের দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, ভরণপোষণের ৬ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে তিনি নাজুকে সঙ্গে নিয়ে রাজুরবাজার এলাকায় যান। পরে তারা মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপুরা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় যান। সেখানে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে আবারো তর্ক হয়। পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে নুরুল নাজুর বুকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে পাশের শ্মশানঘাটে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল জানিয়েছেন।

পুলিশ আরও জানায়, নাজুর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নুরুল বাড়ির পাশের ঢুকিয়ালী নদীর পাড়ে নিয়ে গর্ত করে লাশটি মাটিচাপা দেন। পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নুরুল ও নাজুর প্রায় ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে একাধিকবার বিচ্ছেদ হলেও পরে তারা আবার একসঙ্গে বসবাস করেছিলেন। নাজুর করা ভরণপোষণ ও ধর্ষণের একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় তার স্বামীকে আটক করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।