তিস্তার ভাঙনের শঙ্কায় রাজারহাটের ৯ গ্রামের মানুষ

তিস্তার ভাঙনের শঙ্কায় রাজারহাটের ৯ গ্রামের মানুষ

ফন্ট সাইজ:

উজানের ঢল ও গত দুইদিনের টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীর পানি ৬৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। গতকাল বিকালে কাউনিয়া পয়েন্টে নদীর পানি ২৯ দশমিক ২০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল, যা বিপদসীমার মাত্র ১১ সেন্টিমিটার নিচে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানের ঢলে জেলার সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তিস্তা নদীর বিপদসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার। গত ২৪শে সেপ্টেম্বর কাউনিয়া পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৫২ মিটার। রাতভর ভারী বৃষ্টির পর ২৫শে সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ৮৬ মিটারে। এরপর শনিবার বিকাল ৩টায় পানির উচ্চতা আরও বেড়ে ২৯ দশমিক ২০ মিটারে পৌঁছায়।

পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামে ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজানের ঢলের পাশাপাশি বৃষ্টিপাতকেও নদীর পানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, পানি বাড়তে থাকায় রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের পলাশপুর, ঘড়িয়ালডাঙ্গার বুড়িরহাট, গতিয়াশাম, চর গতিয়াশাম, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা, তৈয়ব খাঁ, চর তৈয়ব খাঁ, রামহরি ও চর বিদ্যানন্দ- এই ৯টি গ্রামের হাজারো মানুষ নদীভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর নতুন করে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পাউবো। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে পলাশপুর, তৈয়ব খাঁ ও চর বিদ্যানন্দ এলাকার কিছু অংশ ইতিমধ্যে ভাঙনের শিকার হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।

তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তা তেমন কার্যকর হচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের আশঙ্কা, এভাবে বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নদীভাঙন আরও তীব্র হবে এবং দ্রুত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে গত কয়েকদিনে জেলার সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এখন পর্যন্ত রাজারহাটে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, এ বছরের বরাদ্দ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে আরও জিও ব্যাগের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।