হারের পর প্রথম জনসভায় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মমতার হুঙ্কার

হারের পর প্রথম জনসভায় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মমতার হুঙ্কার

ফন্ট সাইজ:

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন তথা এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্কলহ প্রকাশ্যে চলে আসায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় অক্সিজেন পেয়েছেন। নির্বাচনে হারের পর প্রথম শনিবার শ্রীরামপুরে জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিয়েছেন। মমতা বলেছেন, ‘‘ভ্যানিশ কুমারকে যেমন ধরেছি, তেমন সব অন্যায়কারীদের ধরব। ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো। যতদিন না যাবে, আমাদের আন্দোলন চলবে।”

বহু টালবাহানার পর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানারে শনিবার হুগলি জেলার শ্রীরামপুরের কোর্ট ময়দানে সাংসদ কল্যান বন্দোপাধ্যায় ও দোলা সেনকে সঙ্গে নিয়ে সভা করেছেন মমতা। তৃণমূল কংগ্রেস ভাগ হওয়ার পর, ঘাসফুল প্রতীক হারানোর পর এটাই মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম জনসভা। শনিবার সেই সভা থেকেই একের পর এক ইস্যুতে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেছেন মমতা।
মমতা বলেছেন, ‘‘বাংলা দখল করবে বলে এসআইআর করেছিল, ৯৩ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। আমরাই প্রথম বলেছিলাম, ওই অফিসার সীমা খান্নার ভূমিকা সন্দেহজনক। ফর্ম ৬ বস্তায় করে বিজেপির সিল লাগিয়ে জমা দিচ্ছিল বিজেপির লোকজন। সব তথ্য রেখে দিয়েছি। ভ্যানিশ কুমার নামটা আমি প্রথম বলেছিলাম। কারণ কী জানেন? ধরে ধরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছিল। ওরা বাংলা দখল করেছে, আমরা দিল্লি দখল করব।”

শুভেন্দু সরকারেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন মমতা। বিজেপির অত্যাচারকে ‘নরকের’ সঙ্গে তুলনা করে মমতা বলেছেন, “যাদের ক্ষমতা, প্রভাব আছে, তারা ভোগ করছেন। গরিব হকারদের রুজি রোজগার খেয়ে বেকার করে দিচ্ছেন। এসআইআরে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। গরিব মানুষের নাম বাদ দেওয়ায় রেশন পাচ্ছেন না, স্কলারশিপ পাচ্ছেন না। এর চেয়ে নরকেও কম অত্যাচার হয়।”
শ্রীরামপুরের সভা থেকে অন্নপূর্ণা যোজনায় বঞ্চনা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কথায়, “ভোটের আগে মা-বোনেরা সবাই অন্নপূর্ণা পাবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। লক্ষ্মীর ভান্ডার সবাই পেত। যতদিন বাঁচবে ততদিন আমরা টাকা দিতাম। এখন অন্নপূর্ণা সবাইকে দেবে বলেও সেই কথা রাখল না।”

এদিকে, ভারতের নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে নয়াদিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একটি বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিআইএম-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এদিনে সভা থেকে মমতা জানিয়েছেন ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে জোটের বৈঠক হবে।
শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দেবার পথে আক্রান্ত হয়েছেন মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শ্রীরামপুরের সভায় যাওয়ার আগে মমতা এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, , ‘বিজেপির গুন্ডারা’ এ সব করেছে। এটা ‘গণতন্ত্রের অশনিসঙ্কেত’। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, এ সব করে মমতাপন্থীদের থামানো যাবে না। এই ঘটনার পর মমতা অন্য পথে শ্রীরাপুরে পৌঁছেছিলেন। সঙ্গে ছিল পুলিশের গাড়িও।

কুণাল ঘোষের অভিযোগ, পথে উত্তরপাড়ায় তার গাড়ি আটকে ভাঙচুর করা হয়েছে। পাথর, ডিম ছোড়া হয়েছে। রড দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা হয়েছে। কুণাল জানিয়েছেন, মমতার সভায় যাতে যেতে না পারেন, তাই এ সব করা হয়েছে। তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেছেন। কুণাল জানিয়েছেন, তার গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে।

তবে বিজেপি সংসদ সদস্য রাহুল সিংহ জানিয়েছেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই এ সব ঘটেছে। এর সঙ্গে বিজেপির যোগ নেই। উত্তরপাড়ার মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

নির্বাচন কমিশনের বৈঠক : ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্যের খবর সামনে আসার পর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর শনিবার প্রথম বৈঠক করেছেন। কমিশন এদিন বিকেল ৩টায় বৈঠকে বসেছেন। পরে একটি বিস্তারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এতে এসআইআর প্রক্রিয়া, ইসিআইনেট , ফর্ম-৬, দাবি ও আপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং ক্যাবিনেট সচিবের কাছে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ চিঠিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চিঠি নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, বিষয়টি "কমিশন বা আইটি বিভাগের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্তের সাথে সম্পর্কিত নয়", বরং এটি "নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে কর্মরত একজন কর্মকর্তার কাজের" সাথে সংশ্লিষ্ট।
কমিশন আরও জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তার জারি করা কাজের পুনর্বণ্টন সংক্রান্ত নির্দেশগুলো দুজন কমিশনারের নির্দেশের পর "বাস্তবায়িত হয়নি" এবং "আইটি বিভাগের ওপর ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের তদারকির বিষয়টি কখনোই প্রত্যাহার করা হয়নি।"