শাহজালালে ঘুষ ফিরিয়ে ২৮ লাখ টাকার চালান আটক, ৪ লাখ টাকার ল্যাপটপ ফেরত

শাহজালালে ঘুষ ফিরিয়ে ২৮ লাখ টাকার চালান আটক, ৪ লাখ টাকার ল্যাপটপ ফেরত

ফন্ট সাইজ:

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একই দিনে সততা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার দুটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। উৎকোচের লোভনীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানের মালামাল আটক এবং হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান ল্যাপটপ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন তারা। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ঘটনা দুটি ঘটেছে শনিবার সকাল ও দুপুরে।

শনিবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বিমানবন্দরের ৫ নম্বর হেভি লাগেজ গেট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন আনসারের ইনচার্জ পিসি মো. দুলন মিয়া ও এপিসি গোলাম রাব্বানী। এ সময় চীনগামী এক নারী যাত্রীর অস্বাভাবিক গতিবিধি ও আচরণ তাদের নজরে আসে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নজরদারিতে রাখেন এবং মহিলা আনসার সদস্য মোছা. শাহেদা ও শ্রী আলোকে দেহ তল্লাশির নির্দেশ দেন। তল্লাশির সময় ওই নারী যাত্রী ধরা পড়া থেকে বাঁচতে আনসার সদস্যদের ৫ হাজার টাকা উৎকোচ দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আনসার সদস্যরা সততার পরিচয় দিয়ে সেই ঘুষের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। পরে বিষয়টি এভসেক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

এভসেক কর্তৃপক্ষ, শিফট টিআই জায়েদ হোসেন এবং শিফট ইনচার্জ পিসি মো. নিজাম উদ্দিনের উপস্থিতিতে ওই নারী যাত্রীর দেহ তল্লাশি করে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ১ হাজার ৩০০ পিস ইনসুলিন সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত প্রতিটি সিরিঞ্জের আনুমানিক বাজারমূল্য ২২০০ টাকা হিসাবে মোট চালানটির মূল্য প্রায় ২৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধারণা করা হচ্ছে, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব সিরিঞ্জ চীনে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে এভসেক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্ধারকৃত মালামালসহ ওই নারী যাত্রীকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

একই দিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় আরেকটি মানবিক ঘটনার জন্ম দেন আনসার সদস্যরা। সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন এপিসি মো. গোলাম রব্বানী, এপিসি মো. ইমান আলী ও এপিসি মো. সাহেবে আলী। দায়িত্ব পালনকালে তারা একটি ট্রলির ওপর মালিকবিহীন পরিত্যক্ত একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। ব্যাগটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তল্লাশি করলে ভেতরে ২টি দামি ল্যাপটপ, ১টি পাসপোর্ট ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পাওয়া যায়। পাসপোর্ট যাচাই করে জানা যায়, ব্যাগটি চীন থেকে আগত ফ্লাইটের যাত্রী মো. রাকিবুল ইসলামের।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শিফট ইনচার্জ পিসি মো. নিজাম উদ্দিনকে জানানো হয়। তিনি গুরুত্বের সাথে বিষয়টি নিয়ে মাইকিং করার পাশাপাশি পাসপোর্টে থাকা নম্বরে ফোন করে যাত্রীর সাথে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে রাকিবুল ইসলাম দ্রুত ক্যানোপি-২ এলাকায় ছুটে আসেন। তাকে ডিউটি সিকিউরিটি অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায় তিনিই প্রকৃত মালিক। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ল্যাপটপ ও কাগজপত্র তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। হারানো ব্যাগ ফিরে পেয়ে রাকিবুল ইসলাম বলেন, “ব্যাগ হারিয়ে আমি খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ভেতরে আমার অফিসের দুটি ল্যাপটপ ও জরুরি কাগজপত্র ছিল। আনসার সদস্যরা যে সততা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।