রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। শনিবার সুপ্রীম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে তিনি এ সাক্ষাৎ করেন।
জানাযায়, মামলাটির বর্তমান অগ্রগতি এবং উচ্চ আদালতে শুনানির বিষয়ে খোঁজখবর নিতেই রামিসার পিতা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সাক্ষাৎকালে মামলার আইনি দিক নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয় এবং পরে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে একটি ছবি তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে, অ্যাটর্নী জেনারেল রামিসার পিতাসহ একটি ছবি শেয়ার করে ফেসবুকে পোস্ট দেন।
চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার পল্লবী সেকশন-১১ এলাকায় নিজ ভবনের পাশের একটি ফ্ল্যাটে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারায় শিশু রামিসা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার দিনই প্রতিবেশী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরবর্তীতে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় সে। বিচার চলাকালে রামিসার বাবার এক হৃদয়বিদারক বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তিনি ক্ষোভ ও কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেছিলেন, আমি এখন রামিসার নয়, ধর্ষিতার বাবা হিসেবে পরিচিত।
ঘটনার পরপরই ২১ই মে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নিহত রামিসার পিতা-মাতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দৃঢ় আশ্বাস দেন। এরপর দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে, গত ৭ই জুন ঢাকার একটি আদালত প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে সর্বোচ্চ শাস্তিÑমৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। বর্তমানে মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আসামিপক্ষের আপিল শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই উচ্চ আদালতে মামলার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে পরিচালনা করা হবে।
