তালেবানের ভয়েও থামছে না গান, কাবুলের ট্যাক্সিতে ‘নীরব প্রতিবাদ’

তালেবানের ভয়েও থামছে না গান, কাবুলের ট্যাক্সিতে ‘নীরব প্রতিবাদ’

ফন্ট সাইজ:

তালেবান কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ট্যাক্সিগুলোতে আফগান ও আঞ্চলিক লোকগান এবং পপসংগীত বাজাতে শুরু করেছেন চালকেরা। তবে চেকপোস্টের কাছে পৌঁছালে নৈতিকতা পুলিশ বা ‘মোরালিটি পুলিশ’-এর ভয়ে তারা গানের সাউন্ড মৃদু বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেন।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসমক্ষে গান বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের বিষয়টি তালেবানের ‘মিনিস্ট্রি ফর দ্য প্রোপাগেশন অব ভার্চু অ্যান্ড দ্য প্রিভেনশন অব ভাইস’ বা নৈতিকতা বিষয়ক মন্ত্রণালয় তদারক করে।

দেশটির মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, চালকদের গান শোনা ও বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, গানকে নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এটি যাত্রীদের বিরক্ত করতে পারে।

গান শোনার শাস্তি সম্পর্কে আফগান মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি। তবে তাদের অন্যান্য নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দেশটিতে অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনা রয়েছে।

যাত্রাপথে গান

রোহিন নামে এক ট্যাক্সিচালক বলেন, চেকপোস্টের আশপাশে তিনি বিশেষভাবে সতর্ক থাকেন। তার ভাষ্য, গান নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই গানের প্রতি তার আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে। তাই সকালে যত দ্রুত সম্ভব তিনি গাড়িতে গান চালানোর চেষ্টা করেন।

২৮ বছর বয়সী এই চালকের কাছে সারাক্ষণ গান শোনা এখন এক ধরনের প্রতিবাদ। কারণ আফগানিস্তানে সিনেমাসহ বিনোদনের বিভিন্ন মাধ্যমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আরেক ৩২ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গাড়িতে একা থাকলেই তিনি গান শোনেন। তবে আশপাশের যানবাহনের শব্দে অনেক সময় গান শোনা যা য়না।
তিনি জানান, ইউএসবি ড্রাইভ ও মেমোরি কার্ড থাকার কারণে চেকপোস্টে তাকে দুবার থামানো হয়েছিল। পরে ওই সংরক্ষণ ডিভাইসগুলোতে গান রয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর সেগুলো ভেঙে ফেলা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

গান বাজে এমন ট্যাক্সি খোঁজেন যাত্রীরাও

কাবুলে সঠিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা না থাকায় ‘শেয়ারের’ ট্যাক্সি তুলনামূলক সাশ্রয়ী যাতায়াতের মাধ্যম। দেশটিতে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শামসুল্লাহ আহমদ বলেন, যাত্রা শুরুর আগে তিনি এমন ট্যাক্সি খোঁজার চেষ্টা করেন, যেখানে গান বাজানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

তার মতে, গাড়িতে কম শব্দে গান শোনা হেডফোন ব্যবহারের চেয়ে নিরাপদ।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এমন কয়েকটি ঘটনার কথা বলা হয়েছে, যেখানে দেশটির নৈতিকতা পুলিশের সদস্যরা আফগানদের কান থেকে হেডফোন খুলে নিয়ে তারা গান শুনছেন কিনা, তা পরীক্ষা করেছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন প্রদেশে তালেবানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শাখাগুলো মাঝেমধ্যে বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়ে ফেলার খবরও প্রকাশ করেছে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইফ উল ইসলাম খাইবার বলেন, কত সংখ্যক বাদ্যযন্ত্র জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।