বিজেপির তিন শরিকও নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেছে

ফন্ট সাইজ:

ভারতে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন তথা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দুজন নির্বাচন কমিশনারের উত্থাপিত উদ্বেগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা দাবি করেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের অন্যতম তিনি শরিক দল। বিজেপির এই তিন শরিক দল হলো, চিরাগ পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস), চন্দ্রবাবু নায়ডুর তেলেগু দেশম পার্টি ও উপেন্দ্র কুশওয়াহার রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা। এই দলগুলোর পক্ষ থেকে এসআইআর নিয়ে উত্থাপিত উদ্বেগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও এলজেপি প্রধান চিরাগ পাসওয়ান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো স্পষ্ট করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার প্রধান উপেন্দ্র কুশওয়াহাও অবিলম্বে এ বিষয়ে স্পষ্টীকরণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, তেলুগু দেশম পার্টির লোকসভার দলনেতা লাভু শ্রীকৃষ্ণ দেবরায়লু বলেছেন, স্বচ্ছতা বজায় থাকলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা সুদৃঢ় হবে।

পাসওয়ান বলেছেন, তিনি যেমন নির্বাচন কমিশনের হয়ে কথা বলছেন না, তেমনই বিরোধীদের অভিযোগকেও সমর্থন করছেন না। তবে জনগণের সামনে এখন যেসব প্রশ্ন উঠে এসেছে, সে বিষয়ে কমিশনের কাছ থেকে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, মানুষের যদি নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা উঠে যায়, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য শুভ হবে না। তাই আমার মতে, নির্বাচন কমিশনের উচিত আরও জোরালোভাবে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা। রাহুল গান্ধী বা তার সহযোগীরা কী বলছেন, তার জবাব দেয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু জনগণের মনে যেসব সংশয় বা ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে, তা দূর করা কমিশনের আবশ্যিক কর্তব্য।

তেলুগু দেশম পার্টির লোকসভার দলনেতা লাভু শ্রীকৃষ্ণ দেবরায়লু বলেছেন, ভারতের নির্বাচন কমিশন আমাদের গণতন্ত্রে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই, যখনই কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেন, তখন যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতেই সহায়তা করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি অর্ন্ততদন্তমূলক প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশের বিরোধী দলগুলো যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তার ও পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে ঠিক তখনই বিজেপির তিন শরিক জবাবদিহিতার দাবি তুলেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার এমন সব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছেন, যা তাদের কোনো রকম পূর্ব-অবগতি বা সুপারিশ ছাড়াই জারি করা হয়েছিল। ভোটার নিবন্ধনের বিধিবদ্ধ 'ফর্ম ৬'-এ পরিবর্তন, ভোটার তালিকা থেকে নাম সংযোজন ও বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকার ডেটাবেসের ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ—এসব বিষয়ই ছিল তাদের আপত্তির মূল কারণ।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে যখন বিতর্ক দানা বেঁধেছে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রধান শমীক ভট্টাচার্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সমর্থনে মুখ খুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জ্ঞানেশ কুমারকে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘পদ্মভূষণ’ প্রদান করা উচিত। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, এই শীর্ষ নির্বাচনী আধিকারিক পশ্চিমবঙ্গে একটি সহিংসতামুক্ত বিধানসভা নির্বাচন নিশ্চিত করেছিলেন। পাশাপাশি, অবৈধ বাংলাদেশিদের নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা ‘শুদ্ধ’করার কৃতিত্বও বিজেপি নেতা জ্ঞানেশ কুমারকে দিয়েছেন।