ট্র্যাকের দিকে সবার চোখ। লাল-সবুজ জার্সি পরা কয়েকজনের দেখা মিললো গ্যালারিতে— তাদের অপেক্ষা বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমানকে ঘিরে। কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষটা হলো হতাশায়। ফাইনালের লড়াইয়ে জায়গা করে নিতে পারলেন না ইমরানুর। পারলেন না ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং করতে। এমনকি বছরের সেরা দৌড়টাও দিতে পারলেন না ইমরানুর। নাগোয়া সিটির মিজুহো স্পোর্টস পার্কে ১০.৪৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করে ২৪ অ্যাথলেটের মধ্যে হয়েছেন ২১তম।
এই মৌসুমে ইমরানুরের সেরা টাইমিং ছিল ১০.২৪ সেকেন্ড। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে দৌড়েছিলেন ১০.৩৯ সেকেন্ডে। মৌসুমের সেরা টাইমিংটা করতে পারলে ফাইনালে ট্র্যাকে দেখা যেতো তাকে।
২০২৩ সালে ১০.১১ সেকেন্ডে দৌড়ে জাতীয় রেকর্ড গড়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী ইমরানুরের মধ্যে বয়সের ছাপ বেশ ভালোই চোখে পড়ছে। এশিয়ান ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জেতা ইমরানুরকে এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও তাকে ঘিরেই বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখছে আগামী বছর পাকিস্তানে হতে যাওয়া এসএ গেমসে স্বর্ণপদকের।
বৃহস্পতিবার প্রাথমিক রাউন্ডের হিটে ইমরান ১০.৪৯ সেকেন্ড সমেত নিয়েছিলেন। গতকাল সেমিফাইনালে সেটা কমিয়ে ১০.৪৪ করলেও হতাশ বাংলাদেশের দ্রুততম মানব। দৌড় শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বছরের সবচেয়ে বাজে রেস ছিল এটা, নানা কারণে। তবে এমনটা হয়, আর যা-ই হোক না কেন, আমাকে এখান থেকে সামনে এগোতে হবে। আর কী-ই বা বলবো... হ্যাঁ, আমি সত্যিই হতাশ।’ বাংলাদেশ এক সময় দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ছিল স্প্রিন্টে। এখন সেখান থেকেই দূরে, এশিয়ান থেকে আরো অনেক দূরে।
ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ইমরান বাংলাদেশ ও এশিয়ার অবস্থানের পার্থক্য নিয়ে বলেন, ‘ওরা বলতে গেলে এশিয়ার সেরা। আমি সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছি, আর আজকের দিনে এটাই ছিল আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা। আজ আমি এর চেয়ে ভালো দিতে পারতাম না, তবে তা যথেষ্ট ছিল না— আমি আমার আসল মান বা দক্ষতা দেখাতে পারিনি।’ ইমরান পেশাদার অ্যাথলেট হলেও সব সময় অনুশীলনের জন্য দিতে পারেন না। তাকে অন্য কাজও করতে হয়। তার চাওয়া পুরোপুরি অনুশীলনে দেয়ার, ’আমি ফুল-টাইম চাকরি করি। চাকরির পেছনে যেমন প্রচুর শক্তি ব্যয় হয়, তেমনি অনুশীলনেও হয়। অনুশীলনের সময় আমার আরও কিছুটা নমনীয়তা দরকার। আমি জানি নতুন ফেডারেশন কিছু সহযোগিতামূলক বিষয় নিয়ে কাজ করবে। দেখা যাক সামনে কী হয়, কারণ এই খেলায় আমার হয়তো আর দুই থেকে তিন বছর সময় আছে।’ ইমরান বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে মূলত আলোচনায় এসেছেন এশিয়ান ইনডোরে ৬০ মিটারে স্বর্ণ জেতে। আউটডোরে ইমরান কোনো পদক আনতে পারেননি। এদিকে, এই ইভেন্টে একের পর এক বিস্ময় উপহার দিচ্ছেন থাইল্যান্ডের ২০ বছরের পুরিপল বুনসন। ইমরানুরের সঙ্গে একই হিটে কেবল নিজেকেই ছাড়িয়ে যাননি, এশিয়ান গেমসের নতুন রেকর্ডও গড়েছেন। ৯.৯১ সেকেন্ডে ছুঁয়েছেন ফিনিশিং লাইন। ২০২৫ সালে জুনিয়র এশিয়ান অ্যাথলেটিকসে ৯.৯৪ সেকেন্ডে দৌঁড়েছিলেন এই তরুণ।
গতকাল ৯.৯৫ সেকেন্ডে দৌঁড়ে সেমিফাইনালে আসেন। গতকাল সেমিফাইনালে নিজের টাইমিং আরও কমিয়ে আনেন। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে চীনের সু বিঙতিয়ানের ৯.৮৩ সেকেন্ডের এশিয়ান রেকর্ডও শেষ পর্যন্ত পেছনে ফেলতে পারেন বুনসন, এমন আলোচনাও শুরু হয়ে গেছে।
