অবশেষে এশিয়ান গেমসে পয়েন্টের দেখা পেলো নারী হকি দল। টানা তিন হারের পর গতকাল নাগোয়া থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে কাজাখস্তানের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে মেয়েরা। শুরুটা অবশ্য ছিল স্বপ্নের মতো। কাজাখস্তানের বিপক্ষে প্রথমে লিড নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই চাপ বাড়িয়েছে প্রতিপক্ষ। এক পর্যায়ে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে অর্পিতারা। সেখান থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ। চীনের বিপক্ষে ১৩-০ গোলের বড় হার দিয়ে এশিয়ান গেমসে হকিতে অভিষেক হয় বাংলাদেশের। পরের ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েও ৩-১ গোলে হারতে হয়। তৃতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৮-০ গোলের পরাজয় আরও কঠিন করে তোলে বাংলাদেশের পথ। তবে চতুর্থ ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও লড়াইয়ে ফিরে ৩-৩ গোলে ড্র করায় সেই হতাশা কিছুটা দূর হয়েছে।
সার্ফিংয়ে তৃতীয় ফাতেমা
নারীদের শর্টবোর্ড সার্ফিংয়ে বাংলাদেশের ফাতেমা আক্তার তৃতীয় স্থানে থেকে হিট শেষ করেছেন। জাপানের লং বিচে প্রথম রাউন্ডের দ্বিতীয় হিটে ২.৯২ পয়েন্ট স্কোর করেন তিনি। একটি ওয়েভ থেকে সর্বোচ্চ ২.৫০ পয়েন্ট পেলেও দ্বিতীয় স্কোরিং ওয়েভে ০.৮৩ পয়েন্টের স্কোর ইন্টারফেয়ারেন্স পেনাল্টির কারণে কমে যায়। ফলে সেরা দুটি ওয়েভ মিলিয়ে তাঁর চূড়ান্ত স্কোর দাঁড়ায় ২.৯২। এই হিটে ৭.৭৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিলেন চীনের জিন শুহান। ইন্দোনেশিয়ার হেয়ার কিয়া জো ৫.০৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হন।
ব্যাডমিন্টনে মালয়েশিয়ার কাছে হার
ব্যাডমিন্টনে এশিয়ার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়-পরাজয়ের চেয়ে ব্যবধানটাই ছিল বেশি কৌতূহলের। মিশ্র দ্বৈতে আল আমিন জুমার-উর্মি আক্তার জুটির প্রথম সেটে ছিল কিছুটা লড়াইয়ের আভাস। ২১-১৪ পয়েন্টে হারার পর দ্বিতীয় সেটে ২১-৯ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এই জুটি। ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে হারতে হয় তাদের।
ভারোত্তোলনে ষষ্ঠ স্মৃতি
নারীদের ৫৭ কেজি ওজন বিভাগে বাংলাদেশের স্মৃতি আক্তার মোট ১৭৫ কেজি তুলে সাতজনের লড়াইয়ে ষষ্ঠ হয়েছেন। স্ন্যাচে ৭৫ এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০০ কেজি তোলেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার ওহ ওয়া-ওক ২৩৮ কেজি তুলে এই ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছেন।
শুটিংয়ে দলগত লড়াইয়ে তলানিতে বাংলাদেশ
পুরুষদের ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি-পজিশনে ব্যক্তিগত লড়াইয়ে বাংলাদেশের আব্দুল্লাহেল বাকী, রবিউল ইসলাম ও ইউসুব আলী ভালো অবস্থানে থাকতে পারেননি। ৩৯ শুটারের মধ্যে আব্দুল্লাহেল বাকী ৫৭৭ স্কোর করে ২৩তম, রবিউল ইসলাম ৫৬৭ স্কোরে ৩৪তম এবং ইউসুব আলী ৫৬৭ স্কোরে ৩৫তম হয়েছেন। তিনজনের সম্মিলিত স্কোরে দলগত ইভেন্টে ১১ দলের লড়াইয়ে তলানিতে ছিল বাংলাদেশ।
