ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তদন্ত দাবি জামায়াতের

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তদন্ত দাবি জামায়াতের

ফন্ট সাইজ:

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং যাচাইয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদিন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য এবং খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘটনা স্পষ্ট প্রমাণ করে-ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অন্তর্বর্তী সরকার ও ডিপ স্টেটের ইঞ্জিনিয়ারিং করা নির্বাচন। তিনি রিজওয়ানা হাসান এবং ড. খলিলুর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

গতকাল রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জড়িত থেকে জনগণের রায় পাল্টে দেয়ার অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, তারা ভেবেছে তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং জনগণ বুঝতে পারবে না। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী তিন সপ্তাহের ব্যবধানে তারা নিজেরাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা স্বীকার করেছে। জামায়াত মবের রাজনীতি করে না, মবতন্ত্রে বিশ্বাস করে না মন্তব্য করে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত নিয়মতান্ত্রিক, আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যারা আমাদের চরম বিরোধী, তারাও একবাক্যে স্বীকার করে- জামায়াতে ইসলামী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে নিয়োজিত।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান মিডিয়ার সামনে স্বীকার করেছেন, তারা জামায়াতে ইসলামীকে মেইনস্ট্রিম হতে দেয়নি। সাংবাদিকের পাল্টা প্রশ্নে রিজওয়ানা হাসান বলেন, তারা সংসদে বিরোধী দলে থাকলেও তাদের আমরা মেইনস্ট্রিমে আসতে দিইনি। রিজওয়ানা হাসান তার বক্তব্য ভুল স্বীকার না করলে প্রমাণ হবে- অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সহযোগিতায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে।

সাবেক উপদেষ্টাকে বিএনপি সরকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘটনাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সবচেয়ে বড় উদাহরণ উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু পরবর্তীতে খলিলুর রহমান নিজের চেয়ার ধরে রাখতে ‘লন্ডন মেকানিজম’-এর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিএনপি খলিলুর রহমানের সার্ভিসে এত বেশি খুশি হয়েছে, যার কারণে বিএনপি সরকার গঠন করেই খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে। অথচ অতীতের কোনো নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কোনো উপদেষ্টা নির্বাচন-পরবর্তী সরকারে যুক্ত হননি। রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য এবং খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘটনা স্পষ্ট প্রমাণ করে- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অন্তর্বর্তী সরকার ও ডিপ স্টেটের ইঞ্জিনিয়ারিং করা নির্বাচন।

তিনি আরও বলেন, আদালতের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ বন্ধ করতে সরকার ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে স্বাক্ষরকারী দলগুলো স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। সেই আলোকে গণভোটেও জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। জনগণের সেই রায় উপেক্ষা করে আদালতের দিকে দায় চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে- যা সরকারের একটি ষড়যন্ত্র। সরকার তখন জুলাই সনদ নিয়ে সংসদে আলোচনা না করে বলবে আদালতের আদেশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আদালতকে সরকার নিজের স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি বিএনপি’র উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধানে নেই- এই যুক্তি দেখিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। কিন্তু কোন সংবিধান মেনে আপনারা সরকার গঠন করেছেন? যে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন, সেই সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা নেই। তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার অবৈধ, সেই সরকারের অধীনে নির্বাচনও অবৈধ! জনগণকে বোকা বানিয়ে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা না করে তিনি বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনের পরিচালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান ও মুহাম্মদ শামছুর রহমান, মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সালাম, ড. মোবারক হোসাইন, শাহীন আহমেদ খান, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মহানগর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

এম.টি রক্সি

৪ মাস আগে

জামায়াত যে দুইজনের বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাঁরা তো তাদের লোক। বিগত ১৮ টা মাস দেশে যত মব হয়েছে তার জনকদের মধ্যে রিজোয়ানা হাসান একজন। তিনি বিএনপির যত ক্ষতি করছেন তা শুধু বিএনপি জানে। সে আবার নাকি বিএনপির পক্ষে কাজ করছেন!! আসলে তাকে দিয়ে একটা ইস্যু তৈরী করেছেন জামায়াত। এটা কোনে ইস্যুই না।বেহুদা পেচাল।

মন্তব্য করুন