‘তরুণরা ক্রিস্টিয়ানোকে কেন ভালোবাসে তা আমি জানি’

‘তরুণরা ক্রিস্টিয়ানোকে কেন ভালোবাসে তা আমি জানি’

ফন্ট সাইজ:

বয়স কেবলই একটি সংখ্যা— এই প্রবাদটি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রে যেন শতভাগ সত্য। ফুটবল ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্রকে নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জল্পনা-কল্পনার অন্ত নেই। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে বুটজোড়া তুলে রাখার কথা একবারের জন্য হলেও মাথায় এসেছিল তার। তবে ইতিহাস গড়ার অদম্য ক্ষুধা, পর্তুগালের জার্সিতে আরও শিরোপা জেতার জেদ এবং কাঙ্ক্ষিত ১,০০০ গোলের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলার তীব্র বাসনা তাকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে এনেছে। লিসবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিআরসেভেন নিজেই স্পষ্ট করেছেন এই রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের গল্প।

ওয়েলসের বিপক্ষে উয়েফা ন্যাশনস লীগের হাইভোল্টেজ ম্যাচের ঠিক আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রোনালদো খোলামেলা জানান তার মনের কথা। আল-নাসরের এই ফরোয়ার্ডের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ক্যারিয়ারে ঐতিহাসিক ১,০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা। সেই ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছাতে তার প্রয়োজন আর মাত্র ২১ গোল। নিজের অবসরের জল্পনা নিয়ে রোনালদো বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তা ভেবেছিলাম। আমি সব সময়ই আমার সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান নিয়ে ভাবি। আমি একজন চিন্তাশীল মানুষ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সভাপতি ও কোচের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি এখনো বিশ্বাস করি, জাতীয় দলকে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে আমি সাহায্য করতে পারবো। শুধু গোলের মাধ্যমেই নয়, মাঠের বাইরেও দলের প্রতি আমার সমর্থন থাকবে।’ পর্তুগাল স্কোয়াডে এবার ফ্যাবিও সিলভা, নুনো মেনদেস এবং জোয়াও নেভেসের মতো একদল উদীয়মান তরুণ জায়গা করে নিয়েছেন। ড্রেসিংরুমে নতুন এই প্রজন্মকে গাইড বা মেন্টরিং করাও রোনালদোর ক্যারিয়ার টেনে নেওয়ার অন্যতম বড় একটি কারণ। তবে নিজের মূল দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন। তরুণদের প্রসঙ্গে রোনালদো বলেন, ‘এটি একটি নতুন তরুণ প্রজন্ম। তবে আমার কাছে মূল বিষয় হলো মাঠে নেমে গোল করা এবং দলকে ম্যাচ জেতানো। তরুণরা ক্রিস্টিয়ানোকে কেন ভালোবাসে তা আমি জানি। কারণ তারা আমাকে একটি উদাহরণ হিসেবে দেখে। এমনকি আমি অবসর নেয়ার ১০ বছর পর হলেও এই ধারা বজায় রাখবো।’

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবল মাতাচ্ছেন রোনালদো। এই দীর্ঘ পথচলায় যেমন পেয়েছেন আকাশচুম্বী ভালোবাসা, তেমনি সহ্য করতে হয়েছে কড়া সমালোচনা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে দেশের মানুষের ভালোবাসাই তার প্রধান চালিকাশক্তি। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এই পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী বলেন, ‘পর্তুগালেই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা
পেয়েছি। আমি বুঝতে পারি কিছু মিডিয়া চ্যানেল আমার সমালোচনা করতে পছন্দ করে, তারা আমাকে এক প্রকার শেষ করে দেয়ার চেষ্টা করেছে। তবুও আমি নিজেকে সামলে নিতে পেরেছি। গত ২০ বছর ধরে আমি এটি সহ্য করে আসছি। তবে আমার সমস্ত স্মৃতি সেই মানুষগুলোর জন্যই, যারা আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে।’ পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসও তার এই দলের সবচেয়ে বড় তারকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ক্রিস্টিয়ানোকে তিনি পর্তুগাল ও বিশ্ব ফুটবলের ‘জীবন্ত প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত
করেছেন।

কোচের মতে, রোনালদোর নিবেদন এবং শারীরিক ফিটনেস বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য বড় শিক্ষা। দেশের জার্সিতে ২৩৪তম ক্যাপ অর্জনের অপেক্ষায় থাকা এই কিংবদন্তি প্রমাণ করে চলেছেন যে, মানসিক শক্তি এবং কঠোর পরিশ্রমের কাছে বয়স পুরোপুরি হার মানতে বাধ্য। হাজার গোলের রোমাঞ্চকর মাইলফলক থেকে মাত্র কয়েক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে থাকা রোনালদো কেবল একজন ফুটবলার নন, তিনি এখন একটি প্রতিষ্ঠান। পর্তুগালের জার্সিতে আরেকটি উয়েফা ন্যাশনস লীগ শিরোপা জেতার স্বপ্ন তার চোখেমুখে স্পষ্ট। ২০২৬ সালের পরবর্তী অধ্যায়েও এই পর্তুগিজ মহাতারকা মাঠ মাতাবেন তার চিরচেনা সাবলীল ভঙ্গিমায়, লাল-সবুজ জার্সির গৌরবকে পৌঁছে দেবেন এক অনন্য উচ্চতায়। ফুটবল বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির জন্য, যেদিন ইতিহাসের পাতায় ১,০০০ গোলের পাশে উজ্জ্বল কালিতে লেখা হবে সিআরসেভেনের নাম। বৃহস্পতিবার উয়েফা নেশনস লীগে লিসবনে ওয়েলসের বিপক্ষে গোলের বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট করেন রোনালদো। তবে গ্রুপ ফোরের এই ম্যাচের ২২তম মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের দেয়া একমাত্র গোলে জয় পায় পর্তুগাল।