বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার দেড় মাস পর আকস্মিকভাবেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। তখন থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, মাঠ থেকে সম্মানজনক বিদায় নেওয়ার সুযোগ কি আদৌ পাবেন তিনি? সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিদায়ী ম্যাচে মাঠে নামছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। আর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি নিজেই।
বাবার মৃত্যুর পর মেসি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, জাতীয় দলের জার্সি হয়তো আর গায়ে চড়াবেন না। এরপর গত ৩১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারা সেই বিশ্বকাপ ফাইনালই ছিল দেশের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ।
তবে পরিস্থিতি বদলে যায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর। আসন্ন তিন প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত স্কালোনির ২৮ সদস্যের দলে রাখা হয় মেসিকেও। জানানো হয়, আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) ট্রেনিং কমপ্লেক্সে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্কালোনি বলেন, মেসিকে যথাযথ সম্মান জানানোর এখনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তার ভাষায়, ‘যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সে যাচ্ছিল, তা আমরা সবাই জানতাম। তারপরও যারা তাকে ভীষণ ভালোবাসে, তাদের কাছে এসে বিদায় জানানোর আগ্রহ দেখিয়েছে। যদি শ্রদ্ধা জানানোর কোনো আয়োজনের কথা ভাবা হয়, তাহলে তা এখনই করা উচিত। কারণ সে খেলা চালিয়ে গেলেও হয়তো কিছুদিন পর তার সেই জাদুকরি প্রভাব আগের মতো থাকবে না, আর এই ভালোবাসা অনুভব করার উপযুক্ত সময় এখনই।’
মেসিকে কীভাবে রাজি করানো হলো, সেই প্রক্রিয়াও খুলে বলেছেন স্কালোনি। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে মেসির সঙ্গে কথা বলে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, এখনই সময়— নইলে ভবিষ্যতে আর কখনো এই সুযোগ নাও মিলতে পারে। স্কালোনির ভাষায়, ‘তাকে বোঝানোর জন্য আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছিলাম যে, হলে এখনই, নয়তো কখনোই নয়। কারণ পরে কী হবে, তা কেউ জানে না। সে বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল।’
এই উদ্যোগে পাশে ছিল এএফএ ও সংস্থাটির সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও। স্কালোনি বলেন, ‘এএফএ এবং সভাপতিও তাদের ভূমিকা পালন করেছেন। দারুণ ব্যাপার, এটা তার প্রাপ্য। এখন যা কিছু করা সম্ভব, তা এখনই করে ফেলা ভালো।’ তাপিয়া জানিয়েছিলেন, স্কালোনির সঙ্গে কথা বলার পরই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, তাদের প্রতীক ও অধিনায়ক মেসিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে ৬ অক্টোবর তিনি তার প্রাপ্য বিদায়টা পান। মেসি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করার পর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী পুরো দলকে পরিবারসহ আমন্ত্রণ জানানো হয়, যাতে তারা বিশ্বসেরা এই ফুটবলারের ‘শেষ ট্যাংগো’ প্রত্যক্ষ করতে পারেন।
মেসির বিদায়ের পাশাপাশি এখন আলোচনায় স্কালোনির নিজের ভবিষ্যৎও। চলতি ডিসেম্বরেই তার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ফুরাচ্ছে, আর বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর তিনি নিজেও দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
বিদায়ী ম্যাচ খেলতে মেসি যেভাবে রাজি হন
স্পোর্টস ডেস্ক
খেলা
১ ঘন্টা আগে
২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার), ২০২৬, ৩ঃ৪১ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
