ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এক মঞ্চে এসে নতুন জোট গঠন করেছে দেশটির প্রধান সাতটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ‘ইথিওপিয়ান পিপলস ফোর্সেস অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল’ নামের এই মোর্চায় তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ), আমহারা ফানো ন্যাশনাল মুভমেন্ট এবং ওরোমো লিবারেশন আর্মিসহ (ওএলএ) গুরুত্বপূর্ণ বিদ্রোহী দলগুলো একজোট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবির সরকারের পতনের পর একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছে তারা। এ খবর প্রকাশ করেছে অনলাইন আল জাজিরা।
বিদ্রোহী জোট গঠনের পরপরই তিগ্রাই অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ তিগ্রাইয়ের দুটি স্কুলে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন। এর পরপরই মেকেলের আলুলা আবা নেগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণে নেয় তিগ্রাইয়ান বাহিনী। তবে সরকার অভিযোগ করেছে, ইথিওপিয়ায় অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়া এসব গোষ্ঠীকে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে। যদিও ইরিত্রিয়া এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
২০২২ সালে প্রিটোরিয়া শান্তি চুক্তির মাধ্যমে তিগ্রাইয়ের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছিল। ওই যুদ্ধে প্রায় ছয় লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল বলে ধারণা করা হয়। সম্প্রতি টিপিএলএফ নিজেদের আঞ্চলিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাদের বিরোধ আবার চরমে পৌঁছেছে। সীমান্ত এলাকায় ভারী কামান ও ড্রোন হামলার প্রকোপে ইতোমধ্যেই কয়েকশ মানুষ সুদানে পালিয়ে গেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাতটি দলের এই জোটের রাজনৈতিক লক্ষ্য এক হলেও তাদের অতীত ইতিহাস ও আঞ্চলিক স্বার্থে গভীর বিভেদ রয়েছে। অতীতে নিজেদের মধ্যে তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়ানো এসব গোষ্ঠী কতদিন একসঙ্গে টিকে থাকবে, তা নিয়ে বড় সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে নীল নদের জলবণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে মিশর, সুদান ও ইরিত্রিয়া সক্রিয় থাকায় ইথিওপিয়ার এই অভ্যন্তরীণ সংকট এখন বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
