চট্টগ্রাম নগরের এনায়েত বাজারের বাসা থেকে অসুস্থ ভাইকে হাসপাতালে নেয়ার পথে হঠাৎ বাবার একটি অডিও বার্তা পান মো. সাকিব আমান। হোয়াটসঅ্যাপে আসা সেই বার্তায় আতঙ্কিত কণ্ঠে তার বাবা মো. আমান উল্লাহ বলছিলেন, তাদের জাহাজে মিসাইল হামলা হয়েছে। এরপর কিছু সময়ের জন্য পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বুধবার দুপুরের এ ঘটনায় উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় পড়ে যায় আমান উল্লাহর পরিবার। পরে জানা যায়, হামলার পর তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে ওমানে নেয়া হয়েছে।
মো. আমান উল্লাহ ‘এমভি কেপ দাও’ নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ারে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভারতের উদ্দেশে যাওয়ার সময় ওমান উপকূলের কাছে জাহাজটি হামলার শিকার হয়।
সাকিব আমান জানান, বুধবার বেলা ১টা ৬ মিনিটে তার বাবার নম্বর থেকে একটি অডিও বার্তা আসে। সেখানে বলা হয়, ‘আব্বু, আব্বু, আমাদের জাহাজে মিসাইল অ্যাটাক হইছে। দোয়া করো আব্বু, দোয়া করো। হয়তো আর কমিউনিকেশন করতে পারব না। সাবধানে থাইকো।’
বাবা আরও বলেন, বিষয়টি যেন তার মাকে জানানো না হয়। কারণ তিনি খুব চিন্তা করবেন।
তখন সাকিব তার দুই ভাইসহ গাড়িতে ছিলেন। অডিওটি লাউড স্পিকারে চালু থাকায় তাদের মা-ও পুরো বিষয়টি শুনে ফেলেন। খবরটি শোনার পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় জাহাজটির পেছনের অংশে ইঞ্জিন ও আবাসন এলাকার কাছে পরপর দুটি আঘাত লাগে। এতে তার বাবার কেবিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে হামলার সময় আমান উল্লাহ কেবিনে ছিলেন না; তিনি নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ কারণে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
ওমানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘এমভি কেপ দাও’ মুসান্দাম উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে হামলার শিকার হয়। হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন ধরে যায়। পরে রয়্যাল নেভি অব ওমান ২৭ নাবিককে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হন।
ভারতের ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি একজন ভারতীয় নাবিক। জাহাজটিতে মোট ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সাকিব আমান বলেন, হামলার পর তার বাবাসহ জীবিত নাবিকদের জাহাজ থেকে সরিয়ে ওমানে নেয়া হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে তার আবার যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আব্বু এখন নিরাপদে আছেন। তাকে ওমানে রাখা হয়েছে। প্রথমে ওই অডিও শোনার পর আমরা কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। পরে যখন জানতে পারলাম তাকে উদ্ধার করা হয়েছে, তখন কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।’
মো. আমান উল্লাহ মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ১৫তম ব্যাচের সাবেক ক্যাডেট। তার ছেলে সাকিব আমানও বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৫৩তম ব্যাচের ক্যাডেট এবং বর্তমানে জুনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত।
জাহাজে মিসাইল হামলা, ছেলেকে অডিও বার্তা নাবিকের
‘আব্বু, দোয়া করো—হয়তো আর যোগাযোগ করতে পারব না’
জালাল রুমি, স্টাফ রিপোর্টার
অনলাইন
২ ঘন্টা আগে
২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ১২ঃ৪৭ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
