অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করে ওপেনএআই এজেন্ট, উদ্বেগ

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করে ওপেনএআই এজেন্ট, উদ্বেগ

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের তৈরি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার একটি সরকারি পোর্টাল হ্যাক করেছে। এ ঘোষণা দিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, আরও তিনটি সরকারি ব্যবস্থাও আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে এই হ্যাকিং জুনে ঘটে। বিষয়টি এতদিন প্রকাশ্যে আসেনি। মাত্র আলবানিজ এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব নেতাদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এআই এজেন্ট সরকারি তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া কীভাবে তাদের সংরক্ষিত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আলবানিজ যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন রিচার্ড মার্লেস। বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জোর দিয়ে বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সংবেদনশীল তথ্যের জন্য উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্য একটি দুর্গের ভেতরে রাখি। তবে এই তথ্যের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে একটি ‘বেড়া’র মতো ছিল বলে তিনি জানান। মার্লেস সাংবাদিকদের বলেন, এআই এজেন্টটি সেই বেড়া টপকে গেছে। আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে। এ কাজটি করতে বলা হয়নি এজেন্টকে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে মুখোমুখি বৈঠকে বসার কথা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। তাদের আলোচনায় এআই প্রযুক্তি প্রাধান্য পাবে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হচ্ছে। ঠিক সেই আলোচনার আগে অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাকের এই খবর সামনে এসেছে। তারপর আরও উদ্বেগের কথা হলো যে, এই হ্যাকিংয়ে জড়িত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর এজেস্ট। বিবিসি লিখেছে, এটিকে বিশ্বের প্রথম দিককার প্রকাশ্যে জানানো এআই-চালিত সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাকের একটি বলে মনে করা হচ্ছে। এমন সময় এই ঘটনা ঘটল, যখন এআই শিল্পের দ্রুত ও নিয়ন্ত্রণহীন বিকাশ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা এবং এআই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই জরুরি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানাচ্ছেন।

ওপেনএআই জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে জুন মাসে। ওই সময় তাদের এআই এজেন্ট স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরিসংখ্যান নিয়ে গবেষণা করছিল। এ সময় সেটি ‘অস্ট্রেলিয়া সরকারের কয়েকটি ওয়েবসাইট ও সেবা’ থেকে ফাইল সংগ্রহ করে। এর মধ্যে দেশটির সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মেডিকেয়ারের এমন কিছু তথ্যও ছিল, যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগস্টের আগে তারা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেনি। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়া সরকারের সংস্থা সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়াকে বিষয়টি জানানো হয়। তাও একটি সাধারণ জিজ্ঞাসাবাদ গ্রহণের ইমেইল ঠিকানায় বার্তা পাঠিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হয়।

এর কয়েক দিন পর দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়। অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, এআই এজেন্ট কোনো সংবেদনশীল ফাইলের তথ্য নেয়নি। তবে দেশটির সরকার ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে রয়েছেন। সেখানেই তিনি ঘটনাটি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আজ আমি ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার চরম উদ্বেগের কথা তাকে জানিয়েছি। একই সঙ্গে সরকারকে কী ঘটেছে এবং বিষয়টি কীভাবে জানানো হয়েছে- তা জানাতে কোম্পানিটির অতিরিক্ত সময় নেয়ায় আমার হতাশার কথাও জানিয়েছি। বিষয়টি জানানোর পদ্ধতিটিও অগ্রহণযোগ্য ছিল।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বৃহস্পতিবার সকালে বলেছেন, এই ঘটনায় সারা বিশ্বে সতর্কতার ঘণ্টা বাজা উচিত। নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর সাইবার সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. হ্যামন্ড পিয়ার্স বিবিসিকে বলেন, এআই এজেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত এই ধরনের হ্যাকের ঘটনা বিশ্বে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে জানানো হয়েছে। হাগিং ফেস হ্যাকের মতো ঘটনায় এআই এজেন্টের ‘ভুল আচরণ’ করার বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের কাছে পরিচিত। তবে সংবেদনশীল সরকারি তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতে গিয়ে কোনো এজেন্টের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে এটিই প্রথম বলে জানা যাচ্ছে। পিয়ার্স বলেন, আমি আশা করছি, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে। এগুলো আরও ভয়াবহ এবং আরও ঘন ঘন ঘটবে।

আরও তিনটি সরকারি ব্যবস্থাও আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে: আলবানিজ

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ আরও জানিয়েছেন, ‘আরও তিনটি ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে—এমন বিষয় সম্পর্কেও আমরা অবগত।’

এসবের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার, নিউ সাউথ ওয়েলস ব্যুরো অব ক্রাইম স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড রিসার্চ এবং ভিক্টোরিয়া ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ।
আলবানিজ জানিয়েছেন, তিনি ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার বেন ক্যারল এবং ক্রিস মিনসের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আজ এসব বিষয়ে তাদের ‘পূর্ণাঙ্গ ব্রিফিং’ দেবেন।