প্রথম আলো
‘পুলিশ যখন কনটেন্ট ক্রিয়েটর, নির্দেশিকা মানা হচ্ছে না’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাস্তায় পুলিশের অভিযান চলছে। লাল রঙের স্কুটি চালিয়ে যাওয়া এক নারীকে হাতের ইশারা দিয়ে থামানো হলো। এরপর দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীর কাছে গিয়ে বললেন, ‘কী দিদি, বাইক তো ভালো চালান। মাথার হেলমেট কোথায়। ওটাও তো গুরুত্বপূর্ণ।’
চালক নারী উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এরই মধ্যে পুলিশের কর্মকর্তা বলেন, ‘যখন বাসা থেকে বের হয়েছেন, দাদায় কিছু বলে নাই? দাদার তো হেলমেটটা মাথায় পরাই দেওয়া উচিত ছিল।’
পুলিশ ও স্কুটিচালক নারীর কথোপকথনের ১ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের ভিডিও গত ২৬ আগস্ট ‘ফোর্স–৩৬০ বাই এমএইস নাইম’ নামক একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি ১৬ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। মন্তব্য করেছেন ১ হাজার জনের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী এবং প্রতিক্রিয়া বা রিঅ্যাকশন এসেছে প্রায় ৫৫ হাজার।
ভিডিওতে যে পুলিশ কর্মকর্তা স্কুটিচালক নারীর সঙ্গে কথা বলছিলেন, তিনি সার্জেন্ট এম এইচ নাইম। ভোলার চরফ্যাশনে কর্মরত। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে ভিডিও তৈরি করে তিনি ফেসবুকে ছাড়েন। যে ভিডিওগুলোতে সমাজে সচেতনতা তৈরি হবে এবং সম্মানহানি হবে না, এমন ভিডিওগুলো ফেসবুকে ছাড়েন। টাকা আয়ের জন্য ছাড়েন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকা কামানোর জন্য হলে আরও অনেক উপায় ছিল। এটা শুধু সচেতনতার জন্য তৈরি করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন কনটেন্ট বা আধেয় হরহামেশাই পাওয়া যাচ্ছে। শুধু ফেসবুক নয়, ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও লাইকির মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতেও এমন ভিডিও প্রচুর পাওয়া যায়। দেখা যাচ্ছে, পুলিশ কর্মকর্তারাই পরিণত হয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটরে।
ফেসবুকে ১০৭টি অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়া গেছে, যেগুলো পুলিশ কর্মকর্তারা চালান। ভিডিওগুলো লাখ লাখ ভিউ হয়। সেখান থেকে আয়ের সুযোগ রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশ সদস্যরা চাইলে কি তাঁদের অভিযানের ভিডিও ধারণ করে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রচার করতে পারেন?
বিশ্লেষকেরা বলছেন, অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি ব৵বস্থা নেওয়া পুলিশের কাজ। তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা অথবা ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করা পুলিশের কাজ নয়। অন্যদিকে সচেতন করার চেয়ে খ্যাতি অর্জনের চেষ্টাই বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে মানুষের প্রাইভেসি বা গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
মানবাধিকারকর্মী ও গবেষক রেজাউর রহমান লেনিন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ তাদের অভিযানের সময় তদন্তের স্বার্থে ভিডিও ধারণ করতে পারে। কিন্তু সেই ভিডিও শুধু তদন্তকাজেই ব্যবহার করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় তদন্তের বাইরে গিয়ে মামলা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় সেসব ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়া হয়। আবার অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়া বা ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা নিঃসন্দেহে নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের লঙ্ঘন।
তাঁরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর
‘ওসি নুর নবী ফ্যানস’ নামের একটি পেজের এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে হাতকড়া লাগানো এক তরুণ দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর পাশে এক পুলিশ সদস্য ওই তরুণকে ক্যামেরার সামনে তাকাতে বলছেন এবং তাঁর নাম–পরিচয় জিজ্ঞেস করছেন।
ভিডিওর এক পর্যায়ে আরও দেখা যায়, ওই তরুণ কীভাবে চুরি করেছেন এবং তাঁকে কীভাবে আটক করা হয়েছে তার বর্ণনা দিচ্ছেন ওই পুলিশ সদস্য। অপরাধীকে ক্যামেরার সামনে আনা যায় না। এ কারণে পুলিশ এখন বিজ্ঞপ্তিতে আসামির মুখমণ্ডল অস্পষ্ট করে দেয়।
ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম নুর নবী। তিনি দিনাজপুর জেলার কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। অবশ্য পেজ চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওসি নুর নবী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই পেজ আমি চালাই না। কে না কে খুলে চালাচ্ছে। পেজে ফ্যানস লেখা আছে। আমার হলে তো ফ্যানস লেখা থাকত না।’
থানার ওসির নাম নিয়ে পেজ চালানো হচ্ছে, বিষয়টি আমলে নেওয়া উচিত ছিল কি না, এমন প্রশ্নে নুর নবী বলেন, ‘নুর নবী তো আমি একা না। আরও নুর নবী থাকতে পারে।’
অবশ্য দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা–পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওসি নুর নবী ফ্যানস নামের পেজটি ওসি নিজেই চালান এবং পুলিশ সদস্যদের দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন।
প্রথম আলো যে ১০৭টি পেজ খুঁজে পেয়েছে, সেগুলোর একটি ক্রমতালিকা করা হয়েছে অনুসারী সংখ্যার ভিত্তিতে। শহীদুল ইসলাম নামে অ্যাকাউন্টের অনুসারী ১৬ লাখ, শামীম হাসান নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ১৬ লাখ, সুজন শ্রাবণ নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ১৩ লাখ, নাইমুর বিপি ০৩ নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ১০ লাখ, সার্জেন্ট আনিসুর রহমান (আনিসুর রহমান) নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ১০ লাখ, এশা রহমান নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখ।
এ ছাড়া অলক দের (অলক কুমার দে পিপিএম) অনুসারী ৮ লাখ ২২ হাজার, মুখলেচুর রহমানের অনুসারী ৭ লাখ ৪৯ হাজার, আজাদ বিপি নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ৬ লাখ ৪৭ হাজার, এমডি মশিউর রহমান (মশিউর ট্রাফিক অ্যান্ড ট্রাভেল) নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ৫ লাখ ৯৫ হাজার। শিমুল ভাই নামের অ্যাকাউন্টের ৫ লাখ ২৬ হাজার, মাসুদ আলম ফ্যান নামের পেজের অনুসারী ৪ লাখ ৬৪ হাজার এবং সঞ্জয় গোস্বামী (নিলয় হাবি) নামের অ্যাকাউন্টের অনুসারী ৩ লাখ ৯২ হাজার।
কেমন কনটেন্ট বানান তাঁরা
শহীদুল ইসলাম নামের একটি পেজের এক ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো রঙের বোরকা পরা এক নারী পুলিশের একজন সদস্যের কাছে আইনি সহায়তা নিতে এসেছেন।
ওই পুলিশ সদস্য ভিডিওতে বলছেন, ‘এই ছোট বোনটি অনেক বিপদে পড়ে আমার কাছে আসছে দেখা করার জন্য, একটা বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য। বোন আপনার কী সমস্যা হয়েছিল বলেন।’ এরপর ওই নারী তাঁর সমস্যার কথা বলা শুরু করেন। পুরো ভিডিওতে স্যাড ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজতে দেখা গেছে।
১১ সেপ্টেম্বর ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভিডিওটি ৩০ লাখ বার দেখা হয়েছে। একই পেজের আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি বাইকে করে দুই পুলিশ সদস্য ধীরে ধীরে যাচ্ছেন। এক ব্যক্তি ‘দাঁড়ান স্যার’, ‘দাঁড়ান স্যার’ বলে ছুটছেন।
পুলিশ সদস্য বাইক থামিয়ে জিজ্ঞেস করছেন, ‘এই কী হয়েছে, বলেন বিষয়টি।’ তখন ওই ব্যক্তি তাঁর ঘটনা বলা শুরু করেন। এভাবে চলে পুলিশ ও ওই ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথন।
ওই পুলিশ সদস্যের নাম শহীদুল ইসলাম। তিনি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। এই পেজটি তিনিই চালান। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি মূলত কোথাও ডিউটিতে গেলে চোখের সামনে কোনো কিছু পড়লে সেটি ভিডিও করি। গরিব, অসহায় মানুষের সাহায্য করি। ভিডিও দেখে অনেকে তাঁদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসবেন, এই চিন্তা থেকেই কাজগুলো করি।’
অবশ্য দেখলে বোঝা যায়, তাঁর ভিডিওর অনেকগুলো সাজানো। ডিউটির সময় ইউনিফর্ম পরে এমন কনটেন্ট তৈরি করলে কাজে ব্যাঘাত ঘটে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সারা দিনই আমরা ইউনিফর্ম পরে থাকি। ডিউটিতে কোনো সমস্যা হয় না। কাজের ফাঁকেই করি। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি।’
নীতিমালার লঙ্ঘন
বাংলাদেশ পুলিশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০২৫ নীতিমালার ১০.১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো পুলিশ সদস্য তাঁর অপারেশনাল কার্যক্রমের ভিডিও বা স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করতে পারবেন না। অনুচ্ছেদ ৬.৫ অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকাকে সরাসরি ‘অসদাচরণ’ এবং কর্তব্যে অবহেলা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। নির্দেশিকার ১২ নম্বর ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, এই নিয়ম অমান্য করলে তা অপেশাদার আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ
পুলিশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ভিডিও ও ছবি দেওয়ার প্রবণতা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে বেশ কিছু বিধিনিষেধ দিয়েছে। কোনো কোনো দেশে এসব নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের ঘটনায় শাস্তি দেওয়ার নজিরও রয়েছে।
যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগ তাদের ওয়েবসাইটে পুলিশ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিভাগের অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউনিফর্ম পরা নিজেদের ছবি পোস্ট করা অথবা বিভাগের অফিশিয়াল পরিচয়সূচক বিষয় যেমন ব্যাজ, প্রতীক, লোগো ইত্যাদি প্রদর্শন করা নিষেধ।
ফিলিপাইনের পুলিশ সদস্যদের ইউনিফর্ম পরে ও দায়িত্ব পালনকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের বিরুদ্ধেও নির্দেশনা রয়েছে।
২০২৬ সালের ২৩ জুন নাইজেরিয়ার পুলিশ বাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা আনিটি এদেমের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যাবল এবং প্রিমিয়াম টাইমস জানায়, পুলিশ সদস্যরা সরকারি অনুমোদন ছাড়া ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় ভিডিও তৈরি, শেয়ার করা, পুলিশের দাপ্তরিক বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা, সংবেদনশীল অভিযান–সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা কিংবা ব্যক্তিগত প্রচার, বিনোদন বা বাণিজ্যিক লাভের জন্য নিজেদের পদমর্যাদাকে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একই সময়ে দেশটির পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ওলাতুঞ্জি দিসু পুলিশ কর্মকর্তাদের টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নিজেদের নাইজেরিয়া পুলিশ বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে কোনো কনটেন্ট তৈরি বা তা থেকে অর্থ উপার্জন করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এই নির্দেশ অমান্য করলে চাকরিচ্যুতি, পদাবনতি, বেতন বাজেয়াপ্ত এবং আইনি বিচারের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের পোশাক পরে কনটেন্ট তৈরি করে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দেওয়ার সুযোগ নেই। এটা নিয়মের ব্যত্যয়। তিনি বলেন, এ কারণে ইতিপূর্বে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।
শাহাদাত বলেন, পুলিশ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা রয়েছে। এটা মেনে চলতে হয়। যদি এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, কোনো পুলিশ সদস্য সে নির্দেশনা মানছেন না, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘বেপরোয়া কিশোর গ্যাং’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদপুরে দিনদুপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ছিনিয়ে নিল কিশোর গ্যাং।’ ‘বখাটেদের ছুরিকাঘাতে পথচারী নিহত।’ ‘হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে নারীর মৃত্যু’-গত কয়েক মাসে এমন একাধিক শিরোনাম উঠে এসেছে সংবাদপত্রে। সব ঘটনার পেছনেই কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার কথা বলছে পুলিশ। অথচ অজ্ঞাত কারণে অসহায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসআরবি-পুলিশ এমনকি যৌথ বাহিনীর অভিযানেও বাগে আনা যাচ্ছে না কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য।
পুলিশ বলছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী এবং বিস্তীর্ণ মিরপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য সর্বাধিক। এসব এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধেও জড়িত বিভিন্ন কিশোর গ্রুপের সদস্যরা। এদের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক শেল্টার। ২৪-এর পটপরিবর্তনের পর বদলেছে রাজনৈতিক গডফাদার। বাস্তবে কিশোর গ্যাং সদস্যদের কোনো হেরফের হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, দেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কিশোর গ্যাং কোনোদিন বন্ধ হবে না। মূলত প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় রাজনৈতিক দলের, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের ‘বড়ভাই’ নামধারী একশ্রেণির নেতারা রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়াও তাদের নানামুখী অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করে। অন্ধ গলির এই পথ ধরে কেউ কেউ একসময় বড় মাপের সন্ত্রাসী হয়ে ওঠে। কেউ কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক কারবারি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের স্থানীয় চাঁদাবাজ হিসাবে নিজেকে পরিচিত করে তোলে। তারা বলেন, বাস্তবতা এমন-কোনো গণমাধ্যম চাইলেও এদের আসল গডফাদারদের বিরুদ্ধে কিছু লিখতে পারবে না।
আলোচিত মোহাম্মদপুর: ২০২৪ সালেও মোহাম্মদপুরে পুলিশের তালিকাভুক্ত কিশোর গ্যাং ছিল ১৩টি। কিন্তু বর্তমানে সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০। তবে তালিকার বাইরে আরও অন্তত ডজনখানেক গ্যাং সক্রিয়। এর মধ্যে লাড়া দে, ভইর্যা দেসহ বেশ কয়েকটি গ্রুপের হাতে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এসআরবি-পুলিশ এমনকি সেনা অভিযানেও মোহাম্মদপুর এলাকার কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
সর্বশেষ ১২ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর বসিলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দই আর থাকবে না। তবে কমিশনারের এমন হুঁশিয়ারি দেওয়ার মাত্র ৫ দিনের মাথায় উলটো চিত্র দেখা যায়। ১৭ সেপ্টেম্বর সাদেক খান রোডে প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে ছিনতাইয়ের শিকার হন হৃদয় মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী। তাকে দিনদুপুরে কুপিয়ে ২০ হাজার টাকাসহ মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
সরেজমিন স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং, ঢাকা উদ্যান, নবীনগর হাউজিং, চন্দ্রিমা হাউজিং নদীর পাড়, একতা হাউজিং, চাঁদ উদ্যান, সাত মসজিদ হাউজিং, বসিলা চল্লিশ ফিট, বসিলা সিটি, রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, কলেজ গেট ও আসাদগেট এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। এসব এলাকায় প্রকাশ্যে একাধিক কিশোর গ্রুপের সদস্যদের অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়।
পুলিশ বলছে, মোহাম্মদপুর এলাকার অন্তত ২০টি কিশোর গ্যাংয়ের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-পাটালি গ্রুপ, লেভেল হাই, ফরহাদ গ্রুপ, আলমগীর গ্রুপ, নবী গ্রুপ, ডাইল্ল্যা গ্রুপ, এলেক্স গ্রুপ, আকবর গ্রুপ, গাংচিল গ্রুপ, রক্তচোষা গ্রুপ, ‘ল’ ঠেলা, আশরাফ গ্রুপ, স্টার বন্ড, ভাইব্বা ল, টক্কর ল, চেতাইলে ভেজাল, ঘুটা দে অন্যতম। এর বাইরে আদাবর এলাকায় সক্রিয় কবজি কাটা গ্রুপ, মেন্টাল গ্রুপ এবং মিরাজ গ্রুপ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোহাম্মদপুর এলাকার বেশির ভাগ কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে পুলিশের তালিকাভুক্ত কতিপয় শীর্ষ সন্ত্রাসীর হাতে। এদের মধ্যে লাল্লু ওরফে কিলার লাল্লু, ইব্রাহিম চৌধুরী ওরফে কিলার ইব্রাহিম, আরিফ ওরফে চাপা আরিফ, মাহী, শাওন ওরফে শুটার শাওন, তাবরেজ ও রবিন অন্যতম। এছাড়া আদাবর এলাকায় সজিব আহমেদ ওরফে রানা, মেন্টাল রাসেল, মিরাজ, বাবু ওরফে এক্সেল বাবুর নেতৃত্বে একাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয়। এর বাইরে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের কতিপয় নেতার বিরুদ্ধেও কিশোর গ্যাং লালন-পালনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় বিএনপি নেতা এম এ মান্নান ওরফে শাহীন ও বসিলা এলাকায় ডেভেলপার ব্যবসায়ী শামীম এবং হাজি আহমেদ আলীর শেল্টারে রয়েছে একাধিক কিশোর গ্যাং। এছাড়া কৃষি মার্কেট এলাকায় বিএনপি নেতা এনায়েতুল হাফিজ, শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্ছি হেলালের হয়ে কাজ করে যুবদল নেতা জাহিদ মোড়ল এবং আদাবর এলাকায় কথিত যুবদল নেতা রানার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং লালন-পালনের অভিযোগ পাওয়া যায়।
উত্তরায় আতঙ্ক: উত্তরায় কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির অন্যতম বড় স্পট ৯ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন আবদুল্লাহপুর এলাকা। স্থানীয় প্রিন্স গ্রুপের অন্তত ৫০ জন সদস্যের হাতে আবদুল্লাপুর এলাকা রীতিমতো জিম্মি। স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, মাছের আড়ত এবং আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি তারা নানা ধরনের অপরাধে জড়িত। পুলিশ বলছে, প্রিন্স গ্রুপের লিডার স্থানীয় যুবদল নেতা বাবু ওরফে প্রিন্স বাবু। গ্রুপের বেশ কয়েকজন সদস্য চিহ্নিত অপরাধী হিসাবে পুলিশের তালিকাভুক্ত। এদের মধ্যে রানা, বাদশা, কাউন্টার বাবু ও শান্তসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। উত্তরা পশ্চিম থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মিলন মিয়ার প্রশ্রয়ে প্রিন্স বাবু বেপরোয়া। অবশ্য মিলন মিয়া নিজেও একাধিকবার চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন। পরে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
কালের কণ্ঠ
‘হামের দ্বিতীয় ঢেউ, ঊর্ধ্বমুখী ডেঙ্গু’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে হাম ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ ১৫ হাজার ২২৭ শিশু। এ সময় এই দুই রোগে প্রাণ গেছে এক হাজার ১০৩ শিশুর।
এর মধ্যে হামে মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৭৬ জনের, ডেঙ্গুতে মারা গেছে ২৭ শিশু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সংক্রামক রোগ হাম। প্রথম ঢেউ শেষে এরই মধ্যে এই রোগের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
একইসঙ্গে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করেছে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী চাপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এপ্রিল থেকে চলতি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ চার হাজার ৩০০ শিশু। বিপরীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজারের বেশি শিশু।
সর্বশেষ গতকাল বুধবার হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১১ শিশুর। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২৭০ জন। চলতি সেপ্টেম্বরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১০৩ শিশু এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৬ হাজার ৯৯৭ জন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, হাম মহামারির প্রথম ঢেউ পুরোপুরি শান্ত হওয়ার আগেই দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে এবং সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। এখন টিকা প্রয়োগই প্রধান সমাধান। সরকারি উদ্যোগে ব্যাপক টিকাদান নিশ্চিত করতে পারলেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
তিনি বলেন, টিকার বয়সসীমা শুধু ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর না রেখে এখন ছয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সব শিশু-কিশোরকে টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন। মহামারি পুরোপুরি থামাতে রোগতাত্ত্বিক সূত্র অনুযায়ী অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকা দিতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ছিল ৪০ হাজার ৭০৮ জন, মৃত্যু ২৭৬ জনের। মে মাসে আক্রান্ত ৩৯ হাজার ২৭৭ জন এবং মৃত্যু ৩০৯ জনের। জুনে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমে ৩৩ হাজার ৫৭ জন হলেও মৃত্যু ১৩৩ জনের। জুলাইয়ে আক্রান্ত ৩১ হাজার ৩২৭ জন এবং মৃত্যু ১১৯ জনের। আগস্টে আক্রান্ত ৩২ হাজার ৯৩৪ জন এবং মৃত্যু ১৩৬ শিশুর। অর্থাৎ সংক্রমণ কয়েক মাসে কমলেও মৃত্যুর ধারাবাহিকতা থামেনি। দেশে সরকার একের পর এক টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিলেও হামে আক্রান্ত ও মৃত্যু না কমায় প্রশ্ন উঠেছে—টিকাদান কর্মসূচিতে এত দিনের সাফল্যের দাবি থাকলেও হাম নিয়ন্ত্রণে এমন বিপর্যয় কেন? গত কয়েক বছরে দেশে হাম প্রায় নিয়ন্ত্রিত ছিল। ২০২৫ সালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩২। ২০২৪ সালে ২৪৭, ২০২৩ সালে ২৮২ এবং ২০২২ সালে ৩১১ জন আক্রান্ত হয়।
হাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার ১০ কারণ: বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে হাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পেছনে ১০টি কারণ পাওয়া যায়। এগুলো হলো—টিকাদানে বড় ঘাটতি, দুই ডোজ টিকার মধ্যে ইমিউনিটি গ্যাপ, শিশুর সংখ্যার হিসাবে গরমিল, টিকার সরবরাহ সংকট, আগাম সতর্কতার ঘাটতি, নিয়মিত টিকাদানে ভাটা, মাঠকর্মীদের অসন্তোষ, কাভারেজ যাচাইয়ে দুর্বল নজরদারি, টিকা নিয়েও আক্রান্তদের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ঘাটতি এবং অপুষ্টি ও চিকিৎসায় বিলম্ব।
এর আগে হাম নিয়ন্ত্রণে সাফল্য ছিল ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪ সালে বিভিন্ন জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচিতে। এ সময় প্রায় শতভাগ বা তার বেশি কাভারেজের দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২০-২১ সালের পর বড় ধরনের বিশেষ ক্যাম্পেইন হয়নি। এর মধ্যে নিয়মিত টিকাদানের কাভারেজও কমেছে। ফলে জনসংখ্যার একটি অংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে ইমিউনিটি গ্যাপ।
সরকারের একের পর এক কর্মসূচি: চলতি বছরের মার্চে হাম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর উচ্চঝুঁকির ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু করে সরকার। পরে ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত সারা দেশে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের গণটিকা দেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে টিকা দেওয়া হয়েছে প্রায় এক কোটি ৯৬ লাখ ৬১ হাজারের বেশি শিশুকে—অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। কিন্তু এই হিসাবের সঙ্গে অন্য একটি সরকারি কর্মসূচির তথ্যের বড় পার্থক্য দেখা যায়। একই বয়সী শিশুদের গত জুনে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচিতে অংশ নেয় প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখ শিশু। ফলে টিকাদানের হিসাবের সঙ্গে মাঠের শিশুর সংখ্যার এত বড় ব্যবধান কেন—সে প্রশ্ন উঠেছে।
সর্বশেষ ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এ সময় সরকার ৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘নিত্যপণ্যের দাম একের পর এক বাড়ছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে মাস দেড়েক ধরে ক্রেতাকে ভোগাচ্ছিল আটা-ময়দা। গত সপ্তাহে আরেক দফায় কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে পণ্য দুটির দাম। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। এতে নতুন করে চাল, ডিমসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দর বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পণ্য পরিবহন ব্যয় প্রতি কেজিতে পয়সার হিসাবে বাড়লেও খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে টাকার অঙ্কে।
ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। এর মধ্যে একের পর এক নিত্যপণ্যের দর বাড়তে থাকায় কম আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নতুন করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে গরিব মানুষের টিকে থাকতে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এ থেকে উত্তরণে বাজারে সরকারের কড়া নজরদারি প্রয়োজন।
আটা-ময়দা কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে
গতকাল বুধবার রাজধানীর নাখালপাড়া, মহাখালী, কলমিলতা কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। সপ্তাহখানেক আগেও প্যাকেটজাত আটা ও ময়দার দাম ছিল যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ টাকা। সেই হিসাবে আটা-ময়দা কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।
তবে খোলা আটা ও ময়দার দর কিছুটা কম। পণ্য দুটি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ ও ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে। পাঁচ-ছয় দিনের ব্যবধানে খোলা আটা ও ময়দার দামও বেড়েছে পাঁচ টাকা করে।
আটা-ময়দার দাম বাড়ার বিষয়ে মহাখালী কাঁচাবাজারের কে বি স্টোরের স্বত্বাধিকারী বিকাশ বণিক সমকালকে বলেন, এক-দেড় মাস আগে আটা-ময়দার দাম বেড়েছিল। এখন আরেক দফা বাড়ল। নতুন করে দুই কেজির যে প্যাকেটজাত আটা ও ময়দা দিয়েছে কোম্পানিগুলো, সেগুলোর খুচরা মূল্য লেখা রয়েছে ১৪০ এবং ১৬০ টাকা। তিনি বলেন, 'আমাদের সামান্য লাভ হয়। তাই গায়ের দরে বিক্রি করি।'
সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, এক মাসে প্যাকেটজাত আটার ৪ ও ময়দার ১৭ শতাংশ দর বেড়েছে।
ইত্তেফাক
‘অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়: এডিবি’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় গেল ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কিছুটা কমেছে। তবে এর প্রভাব সীমিত থাকবে বলেই মনে করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। চলতি বছর ২০২৬ সালের প্রথম ভাগে জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসায় মানুষের ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ বাড়তে পারে। ফলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও কিছুটা বাড়বে। গতকাল বুধবার প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক সেপ্টেম্বর ২০২৬’ পূর্বাভাস প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
সংস্থাটির হিসাবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে ৪ শতাংশ হতে পারে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার অরো কিছুটা বেড়ে ৪ শতাংশে উঠতে পারে।
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নানা পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে; সেই সঙ্গে বাংলাদেশের নানা অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা আছে। ফলে তিনি মনে করেন, পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। চিংফেং ঝাং আরো উল্লেখ করেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ব্যবসার পরিবেশে সংস্কার দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার এখনই সময়। এসব সংস্কারের ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে, তৈরি হবে শোভন কর্মসংস্থান। এর মধ্য দিয়ে অর্থনীতি আরো শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। সংস্কার বাস্তবায়নে এডিবি বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশ কিছু ঝুঁকির কথাও বলেছে এডিবি। এর মধ্যে আছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া, তেলের দাম বেড়ে যাওয়া ও বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে আরও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোয় প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, ডলারের বিপরীতে টাকার ওপর চাপ অব্যাহত থাকা ও ব্যাংক খাতে নতুন সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি আছে। সেই সঙ্গে রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব, উন্নয়ন ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির সূচক আরো কিছুদিন ওপরের দিকে থাকতে পারে।
পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থ বছর মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ৯ শতাংশ হতে পারে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে এডিবি বলেছে, জ্বালানিসংকট, উত্পাদন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা। এ ছাড়া আবহাওয়ার বিশেষ চক্র এল নিনোর প্রভাবে বৈশ্বিক খাদ্যের দাম বাড়তে পারে।
এডিবি আরো বলেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে চলতি হিসাবের ঘাটতি দ্বিগুণ হতে পারে। রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি হবে—এ কারণে ঘাটতি বাড়বে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি ছিল জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ; ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘সংযোগ আছে, নিরাপত্তা নেই’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল ঘরে ঘরে সংযোগ পৌঁছে দেয়া। কিন্তু ‘বিদ্যুৎ সংযোগ’ আর ‘নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ’ এক বিষয় নয়। দেশের বিদ্যুৎ খাত আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে- কী জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, সেই বিদ্যুৎ কতটা নির্ভরযোগ্য হবে এবং গ্রাহক পর্যায়ে এর দাম কত পড়বে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ’র নতুন ‘স্পেশাল রিপোর্ট অন ইলেকট্রিফিকেশন’ বলছে, বিশ্ব দ্রুত ‘বিদ্যুতের যুগে’ প্রবেশ করছে। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বে বিদ্যুতের চাহিদা বছরে গড়ে তিন শতাংশের বেশি হারে বেড়েছে, যা সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধির গতির প্রায় দ্বিগুণ। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক চূড়ান্ত জ্বালানি ব্যবহারের ২৩ শতাংশ বিদ্যুৎ থেকে এলেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিদ্যুতের গুরুত্ব তার চেয়ে অনেক বেশি। বর্তমানে বিশ্বের জিডিপির ৪৫ শতাংশের বেশি উৎপাদনকারী কর্মকাণ্ডের প্রধান জ্বালানিই হলো বিদ্যুৎ।
বাংলাদেশের জন্যও এই পরিবর্তনের তাৎপর্য অপরিসীম। কারণ, দেশের অর্থনীতি একই সাথে শিল্পায়ন, নগরায়ন, ডিজিটাল সম্প্রসারণ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ও উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে। অর্থাৎ, আগামী দিনে বিদ্যুতের প্রয়োজন শুধু বাড়বেই না বরং অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি খাত বিদ্যুতের ওপর আরো বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। কিন্তু এখানেই লুকিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
বিদ্যুৎ আছে, নির্ভরযোগ্যতা নেই
আইইএ’র প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নামটি একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গে উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সর্বজনীন বিদ্যুৎপ্রবেশাধিকার রয়েছে এমন দেশেও বিদ্যুৎ সরবরাহ অনির্ভরযোগ্য হতে পারে। বাংলাদেশ, মিসর ও ইরাকের মতো দেশগুলোতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুস্পষ্ট উদাহরণ রয়েছে। এর অর্থ হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সঙ্কটকে আর কেবল ‘সংযোগের সমস্যা’ হিসেবে দেখলে চলবে না। এই সঙ্কট এখন মূলত চার স্তরের:
১. বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানি।
২. উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর গ্রিড বা সঞ্চালন ব্যবস্থা।
৩. বিদ্যুতের দাম ও আর্থিক সক্ষমতা।
৪. জ্বালানি সরবরাহ ও ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তা।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা এই চারটি সঙ্কটকে একই সাথে সামনে নিয়ে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাত ও এলএনজি সরবরাহে বিঘেœর কারণে এ বছর দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎসঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ শতাংশের বেশি এখন আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির মূল্য প্রতি এমএমবিটিইউ ৩০ ডলারের কাছাকাছি উঠে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনে চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
এর অর্থ দাঁড়ায়- বাংলাদেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা এখন আর কেবল জাতীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে হরমুজ প্রণালী, এলএনজি বহনকারী জাহাজ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার।
সবচেয়ে বড় শিক্ষা : ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন’ নয়, দরকার ‘বিদ্যুৎ ব্যবস্থা’
আজকের পত্রিকা
‘তালিকা না থাকায় বাসভাড়ায় নৈরাজ্য’—এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকার পরিবহনমালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা হারে বাড়িয়েছে। এ নিয়ে গতকাল বুধবার সরকারি ঘোষণাও (প্রজ্ঞাপন) জারি হয়েছে। কিন্তু গত রাত পর্যন্ত রুটভিত্তিক নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তবে রোববার মধ্যরাতে তেলের দাম বাড়ানোর পরদিন থেকেই দেশজুড়ে প্রায় সব রুটে নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়িয়ে নিয়েছে পরিবহন কোম্পানিগুলো। দূরপাল্লার বাসে ৫০ থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগর পরিবহনের বাসেও অনুমোদিত বৃদ্ধির চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
গতকাল ভাড়া বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পরও অধিকাংশ বাসে নতুন ভাড়ার তালিকা টাঙানো হয়নি। এ কারণে সরকার অনুমোদিত ভাড়া কত, তা না জেনেই যাত্রীদের কাছ থেকে নিজেদের ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহনকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা হচ্ছে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে চলাচলকারী বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা করা হয়েছে। আন্তজেলা, দূরপাল্লার বাস ও মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা। আর ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলার অভ্যন্তরের বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৬০ পয়সা করা হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ ও ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাস্তবে যা দেখা গেছে
গতকাল রাজধানীর সড়কে ঘুরে সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে বাস্তব চিত্র মেলেনি। বিভিন্ন পথে ১০ টাকার ভাড়া ১৫-২০ টাকা এবং ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ কোথাও কোথাও ভাড়া ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। চালকেরা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কথা বললেও ভাড়ার অনুমোদিত হারের তালিকা দেখাতে পারেননি।
সাভার থেকে টেকনিক্যাল এলাকায় নিয়মিত যাতায়াতকারী ফারজানা আহমেদ বলেন, দুদিন আগেও এই পথে ২০ টাকা ভাড়া দিতে হলেও এখন ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সোমবার থেকেই বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। দূরত্বের হিসাবে ভাড়া বৃদ্ধির হার যথাযথ না বলেই তাঁর ধারণা।
ওয়েলকাম পরিবহনের চালক মো. তুহিন মিয়া বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ছে। বাড়তি ভাড়া নেওয়া ছাড়া আমাগো উপায় নাই। সরকার এহনো চার্ট দেয় নাই। মালিকেরা যেমনে বলছেন, আমরা সেইভাবে ভাড়া নিতেছি।’
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ভয়ংকর সেপ্টেম্বর’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে ২০২৬ সালে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০১ জনে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসের মৃতের সংখ্যা সেপ্টেম্বরের ২৩ দিনেই ছাড়িয়ে গেছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছিল ৯৭ জনের। কিন্তু সেপ্টেম্বরের মাত্র ২৩ দিনেই মৃত্যু হয়েছে ১০৪ জনের। অর্থাৎ চলতি বছরের মোট মৃত্যুর ৫২ শতাংশের বেশি ঘটেছে শুধু সেপ্টেম্বরেই।
মঙ্গলবার পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৮৬৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, সংক্রমণের চিত্র উদ্বেগজনক। সেপ্টেম্বরের ২৩ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১ হাজার ৫২১ জন ডেঙ্গু রোগী। এটি বছরের মোট আক্রান্তের প্রায় ৪৭ শতাংশ। আগস্ট মাসে আক্রান্ত ছিলেন ২০ হাজার ৫৩৬ জন, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন, জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন এবং মে মাসে মাত্র ৭১৪ জন। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের সংক্রমণ আগস্টের তুলনায় প্রায় ১১ হাজার বেশি এবং জুলাইয়ের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।
আগস্টের পরই পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে : বছরের প্রথম ছয় মাসে ডেঙ্গু-সংক্রমণ তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে ছিল। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার ১০৪ জন। কিন্তু জুলাই থেকে ঘন ঘন বৃষ্টি হওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। জুলাইয়ে ৯ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হওয়ার পর আগস্টে তা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে ২০ হাজার ছাড়ায়। সেপ্টেম্বর এসে সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা আরও তীব্র হয়েছে। একইভাবে মৃত্যুও আগস্টে ৪৩ জন থেকে সেপ্টেম্বরের ২৩ দিনেই ১০৪ জনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরেই আগস্টের তুলনায় দুই গুণের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৬ সালের ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে আগস্ট ছিল টার্নিং পয়েন্ট, আর সেপ্টেম্বর হয়ে উঠেছে সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস। মাস শেষ হতে এখনো এক সপ্তাহের বেশি সময় বাকি থাকলেও সেপ্টেম্বর ইতিমধ্যে বছরের সর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যুর মাস হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।
মৃত্যুর কেন্দ্রও রাজধানী, তবে ঝুঁকি বাড়ছে জেলাগুলোতে : চলতি বছরে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬১ জনের। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৪ জন, খুলনায় ৩৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, ময়মনসিংহে ১৯ জন। এতে বোঝা যাচ্ছে, ঢাকার পাশাপাশি বিভাগীয় শহর ও জেলাগুলোতেও ডেঙ্গুর প্রাণঘাতী প্রভাব বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ডেঙ্গু শুধু ঢাকা শহরকেন্দ্রিক নয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের বাইরে ৪০৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৩১৭ জন, খুলনায় ২৮০ জন, বরিশালে ১৭৮ জন, রাজশাহীতে ১৫৬ জন, ময়মনসিংহে ১১৩ জন, রংপুরে ৫৯ জন এবং সিলেটে আটজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বছরের মোট হিসাবেও রাজধানীর বাইরের বিভাগগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। খুলনা বিভাগে ১১ হাজার ৬০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯ হাজার ৭৫৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৯ হাজার ২১১ জন এবং ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১ হাজার ৪৫৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
তরুণদের আক্রান্তের হার বেশি : বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১-২৫ বছর বয়সী জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। এ বয়সে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৭৪৯ জন। এরপর ২৬-৩০ বছর বয়সে ৯ হাজার ৬৩২ জন এবং ১৬-২০ বছর বয়সে ৯ হাজার ১৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, মৃত্যুর ক্ষেত্রেও ২৬-৪০ বছর বয়সীদের সংখ্যা বেশি, যা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হাসপাতালে ৫ হাজারের বেশি রোগী : গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৫৭ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬২ হাজার ১১৭ জন। তবে এখনো দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার ৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরজুড়ে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু শয্যার ওপর চাপও বেড়েছে।
ঢাকায় ৯০ শতাংশই ডেন-৩ ধরনের ডেঙ্গু আক্রান্ত
সম্প্রতি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১৩ বছরে এক কিশোর। তার জ্বর ছিল তিন দিন। প্রথম দিন ১০১, দ্বিতীয় দিন ১০২ এবং তৃতীয় দিন ১০৩ ওঠার পর জ¦র কমে যায়। জ¦র আসা-যাওয়া করত। প্লাটিলেট বৃদ্ধি শুরুর পর দেখা দেয় অন্য জটিলতা। ডাক্তার জানান, তার পেটে পানি জমেছে। শুরু হয় অ্যান্টিবায়োটিক। চলে সাত দিন। এরপর সুস্থ হয়ে ওঠে ওই কিশোর। ছেলেটির বাবা জানান, ছেলেকে যে চিকিৎসক দেখেছেন, তার কাছে আসা আরও কয়েকজন রোগীরও ডেঙ্গুর কারণে পেটে পানি জমে। যদিও সবাই ওষুধে সুস্থ হয়ে যায়।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুর ডেন-৩ ধরনে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। ঢাকা ও এর আশপাশের ১৭ জেলায় জরিপ চালিয়ে ৯০ শতাংশই ডেন-৩ পেয়েছে আইইডিসিআর। অন্য যেসব জায়গায় জরিপ চালিয়েছে সেখানে ডেন-২ এবং ডেন-৩ সমান সমান।
চলতি বছরে আইইডিসিআর দেশের চারটি জেলায় জরিপ চালিয়ে কয়েকটি দিক দেখার চেষ্টা করে। জেলাগুলো হলো বান্দরবান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বরগুনা ও পিরোজপুর।
আইইডিসিআর পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, ‘চার জেলায় আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। আমরা দেখি লোকাল ট্রান্সমিশন কেমন ছিল। স্থানভেদে ডেঙ্গু সংক্রমণ হওয়ার কারণটা কী? ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কেমন? ভেক্টরগুলো কোথায় হয়? চার জেলায় চার ধরনের পেয়েছি। এসব জায়গায় মশার উৎপত্তিস্থল ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্ন। বান্দরবানে যেমন দেখেছি বাসার নিচে আর্টিফিশিয়াল ওয়াটার পটগুলো থাকে, সেগুলোতে বেশি। বরগুনা বা দক্ষিণাঞ্চলে হলো সুপারি বাগান যেগুলো আছে, এসব জায়গায় বেশি। মশা বেশি হয় সুপারি ক্ষেত্রের গোড়ায় জমা পানিতে। উত্তরবঙ্গে ডমেস্টিক ওয়েস্টে বেশি, যেমন নারিকেলে খোসায় জমা পানিতে। এসব জায়গায় মশা নিয়ন্ত্রণে কোন বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে আমার সেগুলো দেখিয়ে দিয়েছি। ডেঙ্গু মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় মশা নিয়ন্ত্রণ করা। মশা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’
বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘নীরবে বেপরোয়া ঘুষ’—এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ফাইল নড়াতে ঘুষ, স্বাক্ষর করাতে ঘুষ, নামজারিতে ঘুষ, ভোটার হতে ঘুষ, পেনশনের টাকা তুলতেও ঘুষ। অনেক ক্ষেত্রেই নীরবে, আড়ালে কিংবা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে চলছে এ লেনদেন। কোথাও নির্দিষ্ট অঙ্ক, কোথাও আবার কাজের গুরুত্ব ও তদবিরের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হচ্ছে ঘুষের পরিমাণ। দেশে সরকার বদলেছে, প্রশাসনে সংস্কারের আলোচনা চলছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা বলছে, ঘুষের সংস্কৃতি এখনো বহাল। ভূমি অফিস থেকে পুলিশ, বিআরটিএ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে হাসপাতাল, বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে কর অফিস-অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি ফি ১ হাজার টাকা হলেও ঘুষ দাবি করা হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার কয়েক দিন আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সম্প্রতি ঘুষ ও দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘ঘুষ ও দুর্নীতি কিছুই বদলায়নি, সব আগের মতোই চলছে।’ স্পিকার বলেছেন, ‘সরকারি অধিকাংশ কর্মকর্তাই চোর।’ রাষ্ট্রের দুই শীর্ষ সাংবিধানিক অভিভাবকের মুখ থেকে এই অকাট্য মন্তব্যের পর আর কারও কিছু বলার থাকে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। ব্যক্তিনির্ভর ব্যবস্থা যত দিন থাকবে, তত দিন ঘুষের সুযোগও থাকবে। তাঁদের মতে মাঝে মাঝে দুদকের অভিযানে কিছু কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ধরা পড়লেও ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের মুখে তারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল।
তিনটি খ চিত্র : ১৮ সেপ্টেম্বর শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ভিডিওতে নিরাপত্তাকর্মী, পিয়ন এমনকি রেজিস্ট্রারকেও প্রকাশ্যে ঘুষ নিতে দেখা যায়।
১৬ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ১ হাজার ১৫০ টাকা সরকারি খরচের একটি নামজারির জন্য ৭০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠে এক তহশিলদারের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
একই দিনে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন ভোটার হওয়ার কাজ করে দেওয়ার জন্য তিনি ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ২ হাজার টাকা দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও করেন সেবাপ্রার্থী।
শুধু উল্লিখিত তিনটি ঘটনাই নয়, সরকারি অফিস বিশেষ করে সেবা সংস্থাগুলোয় এ চিত্র নিত্যদিনের; যা ‘বৈধ’ বা ‘স্বাভাবিক’ বিষয় হিসেবে সবাই মেনে নিয়েছে।
ঘুষ.সাইটের চিত্র : নাগরিকের ঘুষের অভিজ্ঞতা প্রকাশের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ঘুষ.সাইট’-এ জমা হওয়া অভিযোগগুলো সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। ওয়েবসাইটটির তথ্যানুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ৩৩ দিনে ১৯ হাজার ১২৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে দাবীকৃত ঘুষের পরিমাণ ৫৫২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। তথ্যানুযায়ী, আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘুষ দাবি করা হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সর্বোচ্চ ঘুষ চাওয়ার পরিমাণ ১০ কোটি টাকা এবং গড় ঘুষ চাওয়ার পরিমাণ ২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। তথ্যানুযায়ী, ঢাকা বিভাগে এক মাসে ৭ হাজার ৫০১, চট্টগ্রামে ৪ হাজার ৭০, রাজশাহীতে ১ হাজার ৬৫১, খুলনায় ১ হাজার ৫০৩, রংপুরে ১ হাজার ৩৪৩, ময়মনসিংহে ১ হাজার ২০৮, বরিশালে ৯৯৪ এবং সিলেট বিভাগে ৮৫৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে ঘুষ.সাইটে।
সহযোগীদের খবর
পুলিশ যখন কনটেন্ট ক্রিয়েটর, নির্দেশিকা মানা হচ্ছে না
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
২ ঘন্টা আগে
২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৮ঃ৪৯ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
