নির্যাতন করে ভাত চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ

খুলনায় আজমুল হত্যা

নির্যাতন করে ভাত চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আয়মান মো. আজমুল হোসেনকে নির্যাতন করে ভাত খাওয়া এবং মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির কথা স্বীকারে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এ মামলায় নতুন গ্রেপ্তার হওয়া শেখ আসিফ হোসেন। তার ভাষ্য কয়েকজন জোর করে আদায় করা ওই স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ করে। একপর্যায়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার ভয় দেখানো হলে আজমুল চারতলার ছাদ থেকে তৃতীয়তলায় লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পা পিছলে নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়।

গতকাল গ্রেপ্তার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শেখ আসিফ হোসেন (২৮) এসআরবি-৬-এর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় গত দুইদিনে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তিনজন এবং একজন জুস বিক্রেতা।

এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক নিন্তার আহমেদ জানান, আজমুল হত্যা মামলায় শেখ আসিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসআরবি-৬, স্পেশাল কোম্পানি ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে বুধবার রাত আড়াইটার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানাধীন ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসিফ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সনাতনকাটি গ্রামের শেখ মিরাজের ছেলে। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসিফকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ আজমুলের মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আসিফের ভাষ্য, একটি বেসরকারি ব্যাংকে তার চাকরি হয়েছিল এবং ২০শে সেপ্টেম্বর যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু ১৮ই সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আজমুলের মৃত্যুর পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

ঘটনার বিষয়ে আসিফ দাবি করেন, শুক্রবার রাতে তিনি তার ব্যাচের সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করতে ওই ভবনে যান। আজমুলকে মারধরের সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে আজমুলকে চারতলার ছাদে নিয়ে মারধর করা হয় এবং চুরি করে ভাত খাওয়া, মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির কথা স্বীকার করানোর চেষ্টা করা হয়।

আসিফ স্বীকার করে এ সময় উপস্থিত কয়েকজন আজমুলের বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার হুমকি দেয়া হলে ভয়ে আজমুল চারতলার ছাদ থেকে তৃতীয়তলায় লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ ম্যাচ ম্যানেজার মেহেদী এবং কৃষি ব্যাংকের খুলনার টাউন নওয়াপাড়া শাখার ক্যাশ অফিসার হাবিব রিফাতের এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করেছে এসআরবি। এ ছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হলের সামনে থাকা ‘মা-বাবার দোয়া তানহা জুস কর্নার’-এর মালিক তারেক ওরফে রুবেল আজমুলকে বেশি মারধর করেছেন বলেও আসিফ দাবি করেছেন।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, আজমুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হাবিব রিফাত আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক ইব্রাহীম খলিল মাহিমের কাছে তিনি এ জবানবন্দি দেন।