সিলেট চেম্বারের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ফের জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চেম্বার প্রশাসক ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে পূর্বের বিরোধ ফিরে এসেছে। ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি একাংশের। তবে চেম্বার প্রশাসক বলছেন; ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার আগে আপত্তির সুযোগ দেয়া হয়েছিল। সেখানে কেউ আপত্তি না জানানোর কারণে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এদিকে ভোটার তালিকা নিয়ে ফের আপত্তি তুলে নির্বাচন পেছানোর দাবি জানিয়ে এবার সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীর দ্বারস্থ হয়েছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। এ নিয়ে এক দফা বৈঠক করলেও কোনো সুরাহা হয়নি। আজ আবার ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসবেন সিটি প্রশাসক। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ।
সিলেট অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন। চেম্বারের ঐতিহ্য অনেক পুরনো। দেশ খ্যাত ব্যবসায়ীরা এ চেম্বারের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। ব্যবসায়ীদের বিরোধ, মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সিলেট চেম্বারে গত দুই বছরের অধিক সময় ধরে প্রশাসক হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। বর্তমান প্রশাসক হচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা। এরই মধ্যে আপত্তি, অনাপত্তির সময় নির্ধারণ করে এই ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবার চেম্বারের ভোটার প্রায় তিন হাজার। ভোটার তালিকা প্রণয়নের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। গত ১৭ই আগস্ট চেম্বার মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আয়েশা আক্তার। আগামী ২৭শে সেপ্টেম্বর নির্বাচনের মনোনয়ন সংগ্রহ ও দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫ই নভেম্বর ভোটের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নেতারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমাও দিয়েছেন। তবে সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের নেতারা এখনো মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বা জমা দেননি। তাদের আপত্তি হচ্ছে ভোটার তালিকা নিয়ে। স্বচ্ছভাবে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই ফোরামের নেতারা। এ কারণে নির্বাচন পেছানোর দাবি নিয়ে তারা সিলেট সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীর দ্বারস্থ হয়েছেন। সোমবার রাতে এ নিয়ে সিটি প্রশাসক চেম্বারের উভয় প্যানেলের নেতাদের নিয়ে বসলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, চেম্বার সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। এর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদি সমঝোতায় শেষ হয় তাহলে হবে। নতুবা আমাদের সবার সহযোগিতায় নির্বাচন হবে। ব্যবসায়ীরা যা চান তাই করা হবে বলে জানান তিনি। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের নেতারা দু’মাস নির্বাচন পেছানোর জন্য প্রশাসকের সহযোগিতা চেয়েছেন।
একইসঙ্গে তারা ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরপেক্ষ কাউকে প্রশাসক করে নতুন করে ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন। যদি তাদের দাবি না মানা হয় তাহলে তারা ভোট বর্জনের কথা জানিয়েছেন। তবে তাদের দাবিকে গ্রহণ করেন সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নেতারা। তাদের কথা হচ্ছে; প্রশাসনই একমাত্র নিরপেক্ষ। তারা যাছাই-বাছাই করেই ভোটার তালিকা প্রণয়ন করেছেন। ব্যবসায়ীদের মধ্যে কাউকে প্রশাসক করলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হবে। সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের শীর্ষ নেতা এহতেশামুল হক জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা নিয়ে পূর্বেও আপত্তি ছিল, এখনো আছে। কর্মচারীদেরও ভোটার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমান তালিকায়ও সেটি হয়েছে। এ কারণে ভোটার তালিকা স্বচ্ছ করতে নির্বাচন পেছানোর দাবি জানানো হয়েছে। তবে তারা নির্বাচনের পক্ষে বলে জানান তিনি। সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের শীর্ষ নেতা ও চেম্বারের সাবেক সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ জানিয়েছেন, প্রশাসনের চেয়ে নিরপেক্ষ আর কেউ নেই। প্রশাসক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইন মেনেই ভোটার তালিকা প্রণয়ন করেছেন। ব্যবসায়ী হলে তাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার সুযোগ নেই।
বছরখানেক আগে নির্বাচনের প্রস্তুতির সময় একইভাবে তালিকায় ৪৭ জন ভোটারকে নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্তে তারা বৈধ হয়েছেন। তিনি বলেন, সিলেটের কয়েক হাজার ব্যবসায়ী চাচ্ছেন নির্বাচন। সেখানে সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু করতে চাইলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হবে। এতে চেম্বারের ভাবমূর্তি ও স্বার্থ দুটো ক্ষুণ্ন হতে পারে। এদিকে ভোটার তালিকা প্রণয়নের বিষয়ে সিলেট চেম্বারের প্রশাসক ও অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার আগে আপত্তির সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কেউ তো এ তালিকা নিয়ে কোনো আপত্তি তুলেননি। যদি আপত্তি তোলা হতো তাহলে সেটি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হতো।
