ফরিদপুরের হাদলে শাহীন বাহিনীর দাপট

ফরিদপুরের হাদলে শাহীন বাহিনীর দাপট

ফন্ট সাইজ:

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার প্রত্যন্ত হাদল ইউনিয়নের হাদল গ্রাম। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধের অভিযোগে এ গ্রামটি ‘সন্ত্রাসী জনপদ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের হাসান খানের ছেলে দফাদার (চৌকিদার) শাহীন খান। তার সঙ্গে রয়েছেন মোসলেম প্রামাণিকের ছেলে সালাম প্রামাণিক ওরফে পান্তা সালাম। তাদের বিরুদ্ধে মারধর, চাঁদাবাজি, জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ছোটবেলা থেকেই এক স্থানীয় চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠতা ও মদতে শাহীন খান এলাকায় একটি কিশোরগোষ্ঠী গড়ে তোলেন।

সময়ের সঙ্গে ওই গোষ্ঠীই এলাকায় ‘শাহীন বাহিনী’ নামে পরিচিতি পায়। পরে ওই চেয়ারম্যানের প্রভাবেই শাহীন ইউনিয়ন পরিষদে চৌকিদারের চাকরি পান বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরির সুবাদে পুলিশের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং এরপর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন- এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, শাহীন ও সালাম ওরফে পান্তা সালামসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের ‘শাহীন গ্রুপের সদস্য’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। সেখানে তাদের পিতা ও গ্রামের ঠিকানাও উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগপত্রে শাহীন খান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক ঘটনার বিবরণও দেয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে হামলা, মারধর, চাঁদাবাজি, জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ধর্ষণ এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ। নথিতে হাদল ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন ঘটনার পাশাপাশি একাধিক জিডি ও মামলার নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরেকটি আদালতের নথিতে মো. আব্দুস সালাম খান বাদী হয়ে শাহীন খানসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলের তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে অভিযোগের বিষয় হিসেবে দণ্ডবিধির একাধিক ধারার উল্লেখ রয়েছে এবং আদালত থেকে অভিযোগটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের নির্দেশ দেয়ার তথ্যও দেখা যায়। এ ছাড়াও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ফরিদপুর থানায় শাহীন খানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগে হাদল এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধ, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষায়, থানায় একাধিক অভিযোগ ও মামলা থাকার পরও দীর্ঘদিন শাহীন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে তারা এলাকায় আরও প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। নথিতে ২০০০ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত কথিত অপরাধের ঘটনাও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে হত্যা, ও ধর্ষণ সংক্রান্ত একাধিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁদা না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো।

এমনকি ওই এলাকায় ঠিকাদারি কাজ করতে গেলেও টাকা দাবি করা এবং জমি-জমা নিয়ে বিরোধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। নথিতে হাদল বাজার ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি এবং জমি নিয়ে বিরোধের একাধিক ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে বর্তমানে একটি মামলায় শাহীন খান কারাগারে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার গ্রেপ্তারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, তিনি জামিনে বা কারাগার থেকে বেরিয়ে এলে আবারো এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতি দেখাতে পারেন- এমন আশঙ্কা করছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তারা শাহীন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে অনেক চেষ্টা করেও শাহীন খান ও সালাম প্রামাণিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ বলেন, আমি নতুন এসেছি। বিষয়গুলো আমার জানা নেই। আমার কাছে অভিযোগ এলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেবো। স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে এত অভিযোগ থাকার পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি? অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হলে তাকেও আইনি সুরক্ষা দেয়াই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।