পোল্যান্ডের আকাশসীমায় আবারও ঢুকে পড়েছে রাশিয়ার একটি সামরিক হেলিকপ্টার। এ ঘটনায় রুশ হেলিকপ্টারটিকে ঠেকাতে যুদ্ধবিমান উড়িয়েছে পোল্যান্ড। একই সঙ্গে দেশটির স্থলভিত্তিক সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
দ্য মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ১১টার পর উত্তর পোল্যান্ডের ব্রানিয়েভো শহরের উত্তরে এই ঘটনা ঘটেছে। পোলিশ সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড জানিয়েছে, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি এমআই-৮ হেলিকপ্টার ‘স্বল্প সময়ের জন্য’ পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।
হেলিকপ্টারটি রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চল থেকে উড়ছিল। এটি পোল্যান্ডের আকাশসীমার সর্বোচ্চ প্রায় ৩০০ মিটার ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে ৪২ সেকেন্ড অবস্থান করছিল।
পোলিশ অপারেশনাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৮ মিনিটে ব্রানিয়েভো শহরের উত্তরে এ আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পোল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনীর রাডার ব্যবস্থা হেলিকপ্টারটির গতিবিধি শনাক্ত করেছে। এরপর আকাশে যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়। পাশাপাশি স্থলভিত্তিক বাহিনী ও সামরিক সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পোলিশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঘটনাটির ধরন থেকে ধারণা করা হচ্ছে রাশিয়া আবারও পোল্যান্ডের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রস্তুতি পরীক্ষা করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছেন এবং পোল্যান্ডের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছেন।
এর আগে বুধবার সকালেই পোলিশ অপারেশনাল কমান্ড জানায়, দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ‘নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতি’ বজায় রেখেছে।
ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী এলাকায় রুশ হামলা জোরদার হওয়ার মধ্যে পোল্যান্ডও উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। গত সোমবার রাতে রাশিয়ার হামলার পর পোল্যান্ড ও লাটভিয়ায় ন্যাটোর যুদ্ধবিমানও আকাশে উড্ডয়ন করে। পূর্ব পোল্যান্ডের বাসিন্দাদের ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা সম্পর্কে সতর্ক করে জরুরি বার্তাও পাঠানো হয়েছে।
মিরর বলছে, গত সপ্তাহে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোতে রাশিয়া হামলা চালিয়ে পরে সেগুলোকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে দাবি করতে পারে।
