সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল ঘোষণা এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির লক্ষমাত্রা অর্জন ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই আশঙ্কায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) ১৪তম সভায় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করে এই পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
বৈঠকের কার্যবিবরণী নিয়ে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি (হেডলাইন ইনফ্লেশন) নিম্নমুখী ধারায় থাকলেও তা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারের নির্ধারিত ৭.৫০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখনও উপরে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটি তাদের পর্যালোচনায় বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেছে, পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এখনও বেশ অস্থিতিশীল।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চলতি সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে মনে করছে, এই পদক্ষেপগুলো মূল্যস্ফীতির চাপকে আরও বাড়িয়ে দেয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ এসব প্রভাবক দেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুদ্রানীতি কমিটি।
বিশেষ করে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি এবং ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) বা মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব কতটুকু পড়ে, তা আগে মূল্যায়ন করতে চায় তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের পরই বর্তমান নীতি সুদহারে (পলিসি রেট) পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, আপাতত নীতি সুদহার অপরিবর্তিত থাকছে।
সভায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন ফেরদৌসী নাহার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ইমাম আবু সাঈদ। এছাড়া মুদ্রানীতি কমিটির সদস্য সচিব ও মুদ্রানীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সরকারও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
