অন্য যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলায় ২০ বছর বয়সী এক ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীকে জোর করে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক লেকচারারের বিরুদ্ধে। প্রথমে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারতের তেলেঙ্গানায় ঘটেছে এই ঘটনা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত শিক্ষার্থীর নাম থান্দ্রা অক্ষিতারানি। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তিনি কীটনাশক পান করে পরিবারের উদ্দেশে একটি সুইসাইড নোট রেখে দেন। বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। এরপর পুলিশ আত্মহত্যায় মৃত্যুর মামলা করে।
কিন্তু তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অক্ষিতারানিকে জোর করে কীটনাশক পান করানো হয়েছিল এবং পরবর্তী ঘটনাগুলো ছিল সাজানো পরিকল্পনার অংশ।
দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, ডিপ্লোমা পড়ার সময় নাসপুরের সিঙ্গারেনি কোলিয়ারিজ পলিটেকনিকে আউটসোর্সড লেকচারার হিসেবে কর্মরত নবীন কুমারের সঙ্গে অক্ষিতারানির পরিচয় হয়। পরে অক্ষিতারানি মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি নিতে হায়দরাবাদে চলে যান। সেখানে সিঙ্গারেনির একটি খনিতে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার সময় রবি কুমারের সঙ্গে পরিচয় হয়।
পুলিশের অভিযোগ, অক্ষিতারানি নবীন কুমারের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে রবি কুমারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়। এটি মেনে নিতে পারেননি নবীন। এ নিয়ে দুজনের ওপর নবীনের ক্ষোভ তৈরি হয়।
পেদ্দাপল্লি জেলার ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ বি রাম রেড্ডি বলেন, অক্ষিতারানি তার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে রবি কুমারের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠায় নবীন তা সহ্য করতে পারেননি।
পুলিশের দাবি, গত ১২ সেপ্টেম্বর বাড়ি ফেরার পথে এফসিআই ক্রসিংয়ের কাছে অক্ষিতারানিকে আটকে দেন নবীন। এরপর তাকে নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে যান তিনি। সেখানে অক্ষিতারানিকে রবি কুমারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে একটি নোট লিখতে বাধ্য করা হয়। পরে তাকে জোর করে কীটনাশক পান করানো হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশ আরও জানায়, অক্ষিতারানির চিকিৎসা নিতে যাওয়ার বিষয়টিও নবীন ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করেন। পরে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এর মাধ্যমে পরিবারকে অক্ষিতারানি আত্মহত্যা করেছেন- এমন ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে পুলিশের অভিযোগ।
১২ সেপ্টেম্বর অক্ষিতারানিকে গোদাবরিখানির সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তদন্তে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, কলের তথ্য, ফোনালাপের রেকর্ডিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রমাণ বিশ্লেষণ করে। এসব প্রমাণের ভিত্তিতে নবীন কুমারকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
গত ২০ সেপ্টেম্বর পুলিশ নবীন কুমার (৩৮) এবং সিঙ্গারেনির ওভারম্যান রবি কুমারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে। তদন্তের অংশ হিসেবে একটি গাড়ি ও কয়েকটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
