‘সিক্রেট লাভার’কে নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি

প্রিন্সেস ডায়ানার গোপন প্রেম

‘সিক্রেট লাভার’কে নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি

ফন্ট সাইজ:

বৃটেন ছেড়ে গোপন প্রেমিক পাকিস্তানি-বৃটিশ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাসনাত খানের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানা। তার ভাই চার্লস স্পেন্সারের নতুন স্মৃতিকথায় এমন দাবি করা হয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত ‘সোয়ান সং: ডায়ানা, মাই সিস্টার’ বইয়ে স্পেন্সার লিখেছেন, বৃটেনে জীবন ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে বলে মনে করতেন ডায়ানা। তাই কেপটাউনে হাসনাত খানের সঙ্গে তুলনামূলক শান্ত ও সাধারণ জীবন কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
এমনকি পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে বিশ্বখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ক্রিশ্চিয়ান বার্নার্ডের সহায়তা নেয়ার কথাও ভেবেছিলেন ডায়ানা। কেপটাউনের গ্রুট শুর হাসপাতালে বার্নার্ডই বিশ্বের প্রথম সফল মানব হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার করেছিলেন।
স্পেন্সারের দাবি, হাসনাত খানের জন্য ওই হাসপাতালে উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করা যায় কিনা, সে বিষয়ে বার্নার্ডের সাহায্য চেয়েছিলেন ডায়ানা।

স্পেন্সার লিখেছেন, জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ডায়ানা প্রায়ই নানা ধরনের পরিকল্পনা করতেন। তবে সেসব পরিকল্পনার কিছু ছিল ‘সরল কিন্তু অসম্ভব স্বপ্ন’।
১৯৯৭ সালের মার্চে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার সময় ডায়ানা গভীরভাবে অসুখী ছিলেন। স্পেন্সারের ভাষায়, ইংল্যান্ডের জীবন তার কাছে তখন ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠেছিল।
স্পেন্সার লিখেছেন, আফ্রিকার এই অপূর্ব সুন্দর প্রান্তটি তার এবং তার হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রেমিকের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে কিনা, তা নিজ চোখে দেখতে এসেছিলেন তিনি।
স্পেন্সারের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে গোপনে হাসনাত খানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ডায়ানার। আদর করে তাকে ‘ডিশি ডাক্তার’ বলে ডাকতেন। তৎকালীন প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর হাসনাতের সঙ্গে সম্পর্ককেই ডায়ানার সবচেয়ে গুরুতর প্রেমের সম্পর্ক হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে সম্ভাব্য নতুন জীবনের পথ হিসেবে দেখেছিলেন ডায়ানা। উইলিয়াম ও হ্যারি তখন বৃটেনে স্কুলে পড়ছিলেন।

স্পেন্সার লিখেছেন, ‘ডায়ানা স্বপ্ন দেখেছিলেন, তিনি ও তার প্রিয় মানুষটি কাছাকাছি কোথাও স্বাভাবিক ও সুখী জীবন কাটাবেন। পৃথিবীর অন্য প্রান্তটি যেন তাকে আশ্রয় নেয়ার সেই সম্ভাবনা দেখাচ্ছিল।’
বার্নার্ডও নাকি এই পরিকল্পনাকে উৎসাহিত করেছিলেন। স্পেন্সারকে তিনি জানিয়েছিলেন, হাসনাত খানের জন্য সম্ভাব্য চিকিৎসাসংক্রান্ত চাকরির সুযোগ খোঁজা হচ্ছে এবং উপযুক্ত কোনো পদ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থানকালে ডায়ানা তার ভাইকে দিয়ে নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন। স্পেন্সার জানান, সফরের বেশির ভাগ সময় তিনি ডায়ানাকে সংবাদমাধ্যমের নজর থেকে আড়ালে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তার বোন গভীরভাবে মানসিক কষ্টে ছিলেন।
হাসনাতের ফোনের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতেন ডায়ানা। কিন্তু তিনি খুব কমই ফোন করতেন। ১৯৯৫ সালে ডায়ানা ও হাসনাতের প্রথম দেখা হয়।
লন্ডনের রয়্যাল ব্রোম্পটন হাসপাতালে এক বন্ধুর স্বামীর হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচার চলাকালে সেখানে গিয়েছিলেন ডায়ানা। হাসনাতের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠার পর তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিন ওই হাসপাতালে যেতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সম্পর্কটি গোপন রাখতে দুজনকেই অসাধারণ সব কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছিল। একবার হাসনাতের সঙ্গে লন্ডনের একটি জ্যাজ ক্লাবে যেতে কালো পরচুলা পরেছিলেন ডায়ানা। আবার হাসনাতকে গোপনে কেনসিংটন প্যালেসে ঢোকাতে একটি গাড়ির ডিকিতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
এমনকি ডায়ানা তার বাটলার পল বারেলের মাধ্যমে এমন একজন যাজক খুঁজতে বলেছিলেন, যিনি তাকে ও হাসনাতকে বিয়ে পড়াতে পারবেন। তবে হাসনাত মুসলিম হওয়ায় পরে এই পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়।
তবে ২০০৮ সালে ডায়ানার মৃত্যুর তদন্তের শুনানিতে হাসনাত জানিয়েছিলেন, ডায়ানাকে বিয়ে করলে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব হতো না । কারণ ডায়ানাকে ঘিরে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ও সংবাদমাধ্যমের তীব্র নজরদারি তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে অসম্ভব করে তুলত।
১৯৯৭ সালের গ্রীষ্মে তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। এর কিছুদিন পরই প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান ডায়ানা।
হাসনাতের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ আল-ফায়েদ ও তার পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে ফেরার পর ডায়ানাই সম্পর্ক শেষ করেছিলেন।

এরপর আল-ফায়েদের ছেলে দোদির সঙ্গে ডায়ানার সম্পর্ক তৈরি হলে হাসনাত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। ওই গাড়ি দুর্ঘটনায় দোদিও ডায়ানার সঙ্গে মারা যান।
ডায়ানার মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর প্রকাশিত স্মৃতিকথায় স্পেন্সার জানিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য ছিল বোনের স্মৃতি ধরে রাখা। তিনি ডায়ানাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি ছিলেন ‘অনন্য, প্রাণবন্ত, ভালোবাসায় পরিপূর্ণ, ক্যারিশমাটিক এবং আত্মসন্দেহে ভরা’।