সিদ্ধিরগঞ্জে পার্কিং করা বাসে আগুন, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ফন্ট সাইজ:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রাস্তার পাশে পার্কিং করে রাখা একটি বাসে আগুন দেয়ার অভিযোগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান। এর আগে গত ২১শে সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোদনাইল এসও ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশে সিদ্ধিরগঞ্জ-চাষাড়া সড়কসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাসটির মালিক ও মামলার বাদী মো. আল-আমিনের দাবি, তিনি তার ব্যবসায়িক অংশীদার আতিকুর রহমানের সঙ্গে ‘নীলাচল’ পরিবহনের একটি বাস পরিচালনা করেন। ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৩৪৭১ নম্বরের বাসটির আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

এজাহার অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো ২০শে সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে চালক ও হেলপার বাসটি গোদনাইল এসও ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশে সড়কের পাশে পার্কিং করে যান। বাসের দরজায় তালা এবং জানালা বন্ধ ছিল। বাদীর অভিযোগ, পরদিন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, একদল ব্যক্তি বাসটিতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বাসটি আগুনে পুড়ে যাওয়া অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা তাঁতী লীগের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা লিটনের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন বাদী। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সড়কে অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং একপর্যায়ে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।

বাদীর দাবি, আগুনে বাসটির প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এজাহারে লিটন ছাড়াও আসাদুল্লাহ, সাবেক সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা মো. শহীদুল্লাহ, জামান, রাকিব, সিয়াম হোসেন, নাতিয়া মুন্না, পাভেল, আনোয়ার হোসেন, মোস্তফা হোসেন, জসিম উদ্দিন, সাইফুদ্দীন, আব্দুল, মাসুম বিল্লাহ পৃথিবী, আবুল কালাম আবু, আরিফ হোসেন, স্বপনসহ ১৮ জনের নাম রয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আরও দাবি করা হয়, ঘটনার সময় অভিযুক্তরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুড়ে যাওয়া বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান বলেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”