পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার রাজ্যে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তত্ত্বাবধানে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় প্রক্রিয়া তথা এসআইআর প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তার ও তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন।
এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্কলহের সংবাদ প্রকাশ্যে আসার পরেই নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলগুলি। তাতে শামিল হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বুধবার বিকেলে ফেসবুকে লাইভ করে মমতা অভিযোগ করেছেন, "বিজেপি এবং জ্ঞানেশ কুমার হলো একটি যৌথ উদ্যোগের কোম্পানি। তারা দুজনে মিলে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন লুট করেছে। যদি আপনাদের বিন্দুমাত্র নৈতিক জোর থাকে, তবে আমাদের নির্বাচন ফিরিয়ে দিন," বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান এখন নির্বাচনী পরাজয়কে ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত করেছেন এবং এটিকে এমন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন যা ক্ষমতাসীন বিজেপির অনুকূলে কাজ করেছে। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও বিজেপির বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগ এনেছেন। তিনি দাবি করেন যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে সুরক্ষা দিয়েছে।
মমতা বলেছেন, “অনেকের নাম বাদ দিয়েছে। পুরনো ভোটার তালিকা ফিরিয়ে দিতে হবে। এসআইআর-এর নামে দখল করে, ইভিএম মেশিন দখল এবং হাইজ্যাক করে জ্ঞানেশ কুমার যে যে রাজ্যে জিতেছে, সেই সমস্ত রাজ্যে পুরনো ভোটার তালিকায় পুনরায় নির্বাচন করাতে হবে।” বুধবার মমতার সুরেই নির্বাচনী ব্যবস্থায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গে ব্যালটে পুনরায় নির্বাচন করানোর দাবি তুলেছেন শিবসেনা ইউবিটি-র প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। জ্ঞানেশকে গ্রেফতার করার দাবি জানিয়ে সম্প্রতি হওয়া সমস্ত নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীবালও।
বুধবারই ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের কলহ প্রকাশ্যে এসেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১০ মাসে ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার । কমিশনের একটি সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশিকা নিয়ে এক দিনেই চার বার আপত্তি জানিয়েছেন তারা। কিন্তু কোনও বারেই তাদের আপত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। দুই কমিশনারের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাদের অন্ধকারে রেখে ভোটার তালিকায় নতুন নাম সংযোজন এবং বাদ দেওয়ার কাজ হয়েছে। নতুন ভোটারদের নাম যুক্ত করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের একটি সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ এবং অননুমোদিত’ বলে দাবি করেছেন দুই নির্বাচন কমিশনার। তাদের অভিযোগ, দুই কমিশনারের লিখিত প্রস্তাবের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচন কমিশন ‘অবৈধ’ পদক্ষেপ করেছে।
