ময়মনসিংহে মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের দেয়াল ঘেঁষে ১৭ তলা বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইউনিক ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে। সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদ বলেছেন, ভবনটির নকশা অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় ছয় বছর আগে। সচেতন মহল বলছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোন অদৃশ্য ক্ষমতাবলে প্রকাশ্যে চলছে ভবনের নির্মাণকাজ। নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাস জানান, গত ২০১৭ সালের মার্চে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ভবনটির নকশা অনুমোদন দেয়। অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে ভবন নির্মাণ শুরু ও সম্পন্ন করার বিধান ছিল। সে হিসাবে গত ২০২১ সালের মার্চে নকশাটির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপরও কীভাবে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে চলতি বছরের জুলাইয়ে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে নির্মাণ কাজের শব্দে পরীক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে কয়েকজন অভিভাবক কলেজে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানান। পরে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খান মোহাম্মদ সাজ্জাদ কবীর ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। বিষয়টি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণে অধ্যাপক আলাউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ও কলেজের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে কলেজ সংলগ্ন ওই জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ এবং মহিলা কলেজের বৃহত্তর স্বার্থে জায়গাটি কলেজের জন্য অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিতে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) মাধ্যমে শিক্ষা সচিবের কাছে আবেদন করা হয়েছে। গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে আবেদনটি দেয়া হয় বলে কলেজ সূত্র জানিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানাঘেঁষা ১৭ তলা ভবন নির্মাণ হলে ভবিষ্যতে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণকাজ বন্ধ করা এবং জায়গাটি কলেজের জন্য অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন। এদিকে ভবনটির শেয়ার ক্রয়ের সঙ্গে কলেজের কোনো বর্তমান শিক্ষক জড়িত আছেন কিনা, সে বিষয়েও খোঁজ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ। তার দাবি, কলেজের কোনো বর্তমান শিক্ষক ভবনটির শেয়ার কিনেননি। তবে দুজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শেয়ার কিনেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে কলেজের জন্য সরকার জায়গাটি অধিগ্রহণ করলে তাদের কোনো আপত্তি আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তারা আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, নির্মাণাধীন ভবনে একজন সাবেক অধ্যক্ষের শেয়ার রয়েছে। কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিয়াউল কবীর জানান, তারা এখন শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও শিক্ষা সচিবের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। অন্যদিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাস জানান, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পর বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়ার এখতিয়ার সিটি করপোরেশনের নেই। ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, তিন বছরের মধ্যে ভবন নির্মাণ না করলে বিধান অনুযায়ী নকশার অনুমোদন বাতিল হয়ে যায়।
মউকের অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ করা হলে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া হবে। যেকোনো সময় অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে ইউনিক ডেভেলপার কোম্পানির মালিক মনিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জমির মালিক আমি। বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি জরুরি কাজে ব্যস্ত আছি। পরে সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানান।
