হাকালুকি হাওরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ

হাকালুকি হাওরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ

ফন্ট সাইজ:

মিঠাপানির জলাভূমি হিসেবে খ্যাত এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে এবার জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। অন্যান্য দেশি মাছের সঙ্গে ইলিশ ধরা পড়ায় হাওরপাড়ের জেলেদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। পাশাপাশি স্থানীয় হাটবাজারগুলোতেও মিলছে তুলনামূলক কম দামে ইলিশ। স্থানীয় জেলেদের দাবি, প্রায় ৫-৬ বছর আগে হাকালুকি হাওরে বেশকিছু ইলিশ ধরা পড়লেও মাঝের কয়েক বছর তেমন দেখা মেলেনি। তবে চলতি বর্ষা মৌসুমে আবারো জেলেদের জালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে। মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও হাওরে মিঠাপানিতে ইলিশের বিচরণ ও আবাসস্থল তৈরি হয়েছে। হাকালুকি হাওর কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় মেঘনা ও পদ্মা নদী হয়ে ইলিশ এ হাওরে প্রবেশ করছে।

এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি ইলিশ হাকালুকিতে প্রবেশ করায় জেলেদের জালে এর পরিমাণও বেড়েছে বলে মনে করছে কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য বিভাগ। কুলাউড়া-জুড়ী-বড়লেখা সড়কের পাশে আছুরিঘাট এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন জেলে হাওর থেকে ধরা বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ নিয়ে বসেছেন। এসব মাছের সঙ্গে বেশকিছু রুপালি ইলিশও দেখা যায়। ধরা পড়া ইলিশগুলোর ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত। কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের জেলে আজাদ মিয়া, আজির উদ্দিনসহ কয়েকজন বলেন, গত কয়েক দিন ধরে কয়েকজন মিলে হাওরে বেড়জাল টেনে মাছ ধরছেন। কয়েকবার জাল টানার পর বেশ কয়েকটি ইলিশ ধরা পড়ে। গত কয়েক দিন ধরে অনেক জেলের জালেই ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ধরা পড়ছে। হঠাৎ করে জালে ইলিশ ধরা পড়ায় তারা বেশ খুশি। জানা গেছে, হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত। প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর আয়তনের এ হাওরটি এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হিসেবে পরিচিত। দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছের পাশাপাশি ২০১৬, ২০১৯ ও ২০২২ সালেও হাকালুকি হাওরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছিল।

এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ জানান, মেঘনা ও কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে হাকালুকি হাওরের সংযোগ থাকায় বর্ষাকালে প্রায়ই দলবেঁধে ছোট ছোট ইলিশ হাওরে প্রবেশ করে। এবার স্থানীয় জেলেদের জালে ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। তিনি বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুম এলে মাছগুলো ডিম ছাড়ার জন্য নদীপথে সাগরের দিকে চলে যায়। জুন-জুলাই মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওরে বন্যা দেখা দেয়। তখন হাওরের পানি কুশিয়ারা নদী হয়ে পদ্মা ও মেঘনায় গিয়ে মিশে। এ সময় ইলিশ স্রোতের বিপরীতে হাওরের দিকে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে এসব মাছ হাকালুকি হাওরে চলে আসে। ফলে বর্ষা মৌসুমে এ হাওরে ইলিশের দেখা মেলে। আমি আশাবাদী, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হাকালুকি হাওরে ইলিশ মাছের উৎপাদন রেকর্ড সৃষ্টি করবে।