আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনী রাতভর সীমান্তবর্তী সেনাচৌকিতে গোলাবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন পাকিস্তানের স্থানীয় কর্মকর্তারা। এর আগে দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করে, সীমান্ত দিয়ে তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে। খবর এবিসি নিউজের।
ইসলামাবাদের চারজন কর্মকর্তা জানান, পাকতিয়া ও নানগারহার প্রদেশে আফগান সীমান্তচৌকির কাছাকাছি এলাকা থেকে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি পাকিস্তানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। তাদের দাবি, আফগান তালেবান বাহিনীর সহযোগিতায় এই চেষ্টা চালানো হয়েছে।
ওই চার কর্মকর্তার অভিযোগ, পাকিস্তানি সেনারা অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়ার পর আফগান তালেবান বাহিনী পাকিস্তানের সীমান্তচৌকিগুলো লক্ষ্য করে মর্টারসহ ভারী অস্ত্র দিয়ে গোলাবর্ষণ করেছে।
এর জবাবে পাক বাহিনীও গোলা নিক্ষেপ করে। তারা তালেবানের সীমান্তচৌকি, মর্টার স্থাপনা ও প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
পাক কর্মকর্তারা আরও দাবি করেন, হামলার পর আফগান তালেবান বাহিনী কয়েকটি অবস্থান ছেড়ে চলে যায় এবং এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন জানিয়েছে, বুধবার নিরাপত্তা বাহিনী আফগান তালেবানের ছোড়া আটটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
সূত্রের বরাতে ডন বলেছে, আটটি ড্রোনের মধ্যে চারটি তোরখাম সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এবং বাকি চারটি কোহাতের কাছে ভূপাতিত করা হয়েছে।
এসব ড্রোন পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে বলে দাবি পাক বাহিনীর। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এ ধরনের হামলার কথা অস্বীকার করেছেন।
বুধবার দেয়া উভয় দেশের পরস্পরবিরোধী এসব বক্তব্যের কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান পূর্ব আফগানিস্তানের কয়েকটি স্থানে হামলা চালায়।
ইসলামাবাদের দাবি, এসব স্থানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা ছিল। এতে অন্তত ২৮ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি পাক বাহিনীর।
তবে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পাক বাহিনীর এসব হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনার মধ্যদিয়ে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনা ফের বেড়েছে।
