চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সহ বিভাগের সকল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর উদ্যোগে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধন) ২০২৬ অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এবং বিভাগাধীন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সরকারি দপ্তরসমূহে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে করণীয়’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভাগের ১১ জেলার জেলা প্রশাসকসহ বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। একই জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এর মধ্যে কর্মক্ষেত্রে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ, রেস্টুরেন্টে ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং গণপরিবহনে ৪৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন।
সভায় ২০২৬ সালে দ্য ল্যানসেট পাবলিক হেলথে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে জানানো হয়, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় পরোক্ষ ধূমপানের কারণে প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরোক্ষ ধূমপানের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। তাই বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
সভায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, নির্দিষ্ট ধূমপান এলাকা অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপান থেকে কার্যকরভাবে সুরক্ষা দিতে পারে না। সরকারি ও বেসরকারি অফিসসহ সকল জনসমাগমস্থলে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এতে অধূমপায়ীরা পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতেও মানুষকে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি তামাক ব্যবহার। তাই তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় সরকারি দপ্তরগুলোতে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে অফিস আদেশ জারি, দৃশ্যমান স্থানে ‘নো স্মোকিং’ সাইনেজ স্থাপন, তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্য ফোকাল ব্যক্তি নির্ধারণ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবহিতকরণ, অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকারের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, বর্তমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা জনগণের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি দপ্তরগুলোতে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হলে তা তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দেবে।
মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরের প্রধান ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার, ও সিনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার আবু জাফর, হার্ট ফাউন্ডেশনের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের ডিভিশনাল প্রোগ্রাম অফিসার ডা. মো. শাহিনুল ইসলাম ও সার্ভিলেন্স মেডিকেল অফিসার ডা. উদিত প্রয়াস সিকদার, রিসার্চ অফিসার সাইয়েদা মোছাল্লামা শারমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
