ইরানের বিমান চলাচলের ওপর সর্বাত্মক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বাতিল বাগদাদ ও মাস্কাটের ফ্লাইট

ইরানের বিমান চলাচলের ওপর সর্বাত্মক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বাতিল বাগদাদ ও মাস্কাটের ফ্লাইট

ফন্ট সাইজ:

ইরানের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের ওপর চরম আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমান পরিবহন খাতের ওপর বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে সর্বাত্মক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। এতে মধ্যরাত থেকেই বাগদাদ ও ওমানের মাস্কাটগামী তেহরানের সব নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন, বুধবার থেকে বিশ্বজুড়ে ইরানের সব এয়ারলাইন্সের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম মূলত বন্ধ করে দেয়া হবে। এ খবর প্রকাশ করেছে অনলাইন আল জাজিরা।

ডলার ব্যবস্থা থেকে ছিটকে ফেলার হুঁশিয়ারি

মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট জানান, ইরানের কোনো উড়োজাহাজ কোথাও অবতরণ করলে সেটিকে জ্বালানি দেয়া, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দেয়া বা টিকিট বিক্রির সুবিধা দেয়া যাবে না। বিশ্বের যে সংস্থাই এসব নিয়ম ভাঙবে, তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক ডলার লেনদেন ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। আন্তর্জাতিক আকাশসীমা সরাসরি বন্ধ করার আইনি ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের না থাকলেও, বিমানবন্দরগুলোতে তেল সরবরাহ ও অন্যান্য সেবা প্রদানকারীদের ওপর এই মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি কার্যকরভাবে ইরানি ফ্লাইটগুলোকে মাটিতে নামিয়ে রাখতে বাধ্য করছে।

আকাশপথ রক্ষায় তেহরানের দেনদরবার

নতুন বিধিনিষেধের প্রভাব কমাতে ওমান ও ইরাকের সঙ্গে জোর কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করেছে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা। বাগদাদমুখী ফ্লাইটগুলো সাময়িকভাবে ইরাকের নাজাফ বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে। ওমানের সঙ্গেও বিকল্প পথের আলোচনা চলছে, তবে ইস্তাম্বুলসহ কয়েকটি রুটে ফ্লাইট চালু রাখার দাবি করেছে তেহরান। গত ৮ই সেপ্টেম্বর ইরানের ২৭টি এয়ারলাইন্সের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপায় ওয়াশিংটন। যুদ্ধ ও দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির প্রধান বিমান সংস্থা ইরান এয়ার, মাহান এয়ার ও কেশম এয়ারের বহু উড়োজাহাজ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধর্মীয় পর্যটন ও বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে ইরাক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই বিধিনিষেধ থেকে ছাড় চাইতে পারে। বিশাল সীমান্ত ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে পাকিস্তানও মার্কিন এই নির্দেশ পুরোপুরি মানতে চাইবে না। অন্যদিকে চীন সরাসরি এই একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং রাশিয়া মার্কিন নির্দেশ উপেক্ষা করতে পারে। তবে তুরস্ক সমঝোতার চেষ্টা করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ওয়াশিংটনের নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলার পথে হাঁটতে পারে।

সাধারণ যাত্রীদের ওপর চরম আঘাত

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সাধারণ ইরানি যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে। ইতোমধ্যে বিমান টিকিটের মূল্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ পরিবারের আয় যখন প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, তখন আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষকে স্থল বা সমুদ্রপথে বিকল্প দেশের ওপর নির্ভর করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল নিয়ামক ডলার ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ে অনেক বৈশ্বিক বিমানবন্দরই এখন ইরানের এয়ারলাইন্সগুলোকে সেবা দেয়া থেকে হাত গুটিয়ে নিচ্ছে।