নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে হঠাৎ নতুন সমীকরণ!

ট্রাম্প-মামদানির বৈঠক

নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে হঠাৎ নতুন সমীকরণ!

ফন্ট সাইজ:

মতাদর্শগত তীব্র ব্যবধান ও রাজনৈতিক দ্বিমত ভুলে এক নজিরবিহীন যৌথ পদক্ষেপে অংশ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। স্থানীয় সময় সোমবার মেয়রের সরকারি বাসভবন ‘গ্রেসি ম্যানশন’-এ প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন দুই শীর্ষ এই নেতা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। মেয়র মামদানির পূর্ব আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই তিনি এই পরিদর্শনে আসেন। বৈঠক শেষে দুই নেতা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনেও অংশ নেন, যা প্রেসিডেন্টের পূর্বনির্ধারিত সূচিতে ছিল না।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল কুইন্সের ‘সানিসাইড ইয়ার্ড’-এর ওপর বিশাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে প্রায় ১২ হাজার সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নির্মাণের প্রস্তাবিত প্রকল্প।
ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মতাদর্শের মেয়র মামদানি জানান, প্রকল্পটিকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে ইতিবাচক কথা হয়েছে, যার জন্য বিশাল অঙ্কের ফেডারেল তহবিলের প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) অভিযান বৃদ্ধি এবং হাইতিয়ানদের জন্য ‘টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস’ (টিপিএস) বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মেয়র।

তিনি হাইতিয়ান সম্প্রদায়কে শহরের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে অভিবাসীদের নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ট্রাম্প মেয়রের এই বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনলেও নিজের নীতি পরিবর্তনের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি। এ ছাড়া শহরের আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশিং ব্যবস্থা নিয়েও তাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় উভয় নেতা একে অপরের তীব্র সমালোচনা করলেও দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তাদের তৃতীয় বৈঠক। ট্রাম্প মিডিয়াকে আক্রমণ করার সময় মামদানি নীরব থাকলেও পরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জানান, নিউ ইয়র্কবাসীর স্বার্থে এবং শহরের আবাসন সংকট কাটাতে তিনি যেকোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, ট্রাম্পও মেয়রের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আশা প্রকাশ করেন যে মামদানি একজন সফল মেয়র হবেন।
তবে প্রস্তাবিত সানিসাইড ইয়ার্ড প্রকল্প নিয়ে কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস ভিন্ন মত পোষণ করে জানান, কুইন্সে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু প্রস্তুত প্রকল্প রয়েছে। বিপুল অর্থ এই প্ল্যাটফর্মে খরচ না করে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করাই যুক্তিসঙ্গত।

কোনো দায়িত্বরত মার্কিন প্রেসিডেন্টের গ্রেসি ম্যানশন পরিদর্শন অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। এর আগে ১৯৮১ সালে রোনাল্ড রিগান, ১৯৬২ সালে জন এফ কেওনেডি এবং ১৯৪৯ সালে হ্যারি এস ট্রুম্যান মেয়রের এই সরকারি বাসভবনে এসেছিলেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এটিই প্রথম গ্রেসি ম্যানশন সফর।