ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় ১৬ জনকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঘন জঙ্গলে তৈরি অস্থায়ী ক্যাম্পে লুকিয়ে থেকে গ্রেপ্তার এড়িয়ে যাচ্ছিলেন অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি। শেষ পর্যন্ত নারীর পোশাক পরে পালানোর সময় তিনি ধরা পড়েন।
এই ঘটনায় প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা ডগলাস গার্সিয়া জানান, ৩৩ বছর বয়সী জোরলান লোপেস দা সিলভাকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জানান, ঘন জঙ্গলের বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতেন দা সিলভা।
দা সিলভার বিরুদ্ধে যেসব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো তিন মাসের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। ঘটনাগুলো ঘটেছে পারাইবা রাজ্যের দুর্গম মুলুঙ্গু এলাকায়।
শারীরিকভাবে দুর্বল ও রোগা গড়নের কারণে স্থানীয়রা দা সিলভাকে ‘মসকিতো’ বা ‘মশা’ নামে ডাকত। তদন্ত কর্মকর্তা গার্সিয়া বলেন, তার এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যই শেষ পর্যন্ত তাকে পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে থাকতে সহায়তা করেছে।
গার্সিয়া বলেন, ‘এ কারণেই সে বছরের পর বছর গ্রেপ্তার এড়িয়ে যেতে পেরেছে। জোরলান বেশির ভাগ সময় জঙ্গলে থাকত। এ কারণেই তাকে খুঁজে বের করা এবং শুরুতে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কহীন মনে হওয়া অপরাধগুলোর সঙ্গে তাকে যুক্ত করা এত কঠিন ছিল।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি জনবহুল চত্বরে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গুলি করে হত্যার অভিযোগের পর গোয়েন্দারা দা সিলভাকে একাধিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম হন।
জিজ্ঞাসাবাদে দা সিলভা দাবি করেন, তিনি শুধু অপরাধীদেরই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা প্রমাণ তার এই দাবির সঙ্গে মিলছে না।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় দা সিলভা বর্তমান অভিযোগের বাইরেও আরও কয়েকটি অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। গার্সিয়া জানান, বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত পুরোনো হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নতুন করে শুরু করা হচ্ছে।
ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ দা সিলভাকে কালো-সাদা ডোরাকাটা পোশাক, পরচুলা ও রঙ করা নখসহ নারীর বেশে আটক করে। এ সময় তার সঙ্গে একটি শিশুও ছিল, যেটি তার নিজের সন্তান নয়।
গার্সিয়া বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ। সে জানিয়েছে, ১৩ বছর বয়সে প্রথমবার হত্যা করেছিল। আমরা তাকে ধরতে পেরেছি কারণ সে জঙ্গলে নিজের তাঁবুতে পৌঁছাতে পারেনি। মরিয়া হয়ে সে ওই ছদ্মবেশ নিয়েছিল এবং নিজের নয় এমন একটি শিশুকে সঙ্গে নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এভাবেই সে গ্রেপ্তার হয়।’
