দালাল বাজার ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ

দালাল বাজার ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পদে পদে ঘুষ-দুর্নীতির কারণে এখানে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে করে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, অফিসের তহশিলদার, অফিস সহকারী, পিয়ন-দালাল সবাই ‘ঘুষ বাণিজ্যের’ সঙ্গে জড়িত। অবৈধ লেনদেনকে ঘিরে এই অফিস কেন্দ্রিক শক্তিশালী দালালচক্রও গড়ে উঠেছে।

গত কয়েক দিন দালাল বাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুরে জমির মালিক ও সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি, মিস কেইস, খাজনা, তদন্ত প্রতিবেদন, অনৈতিক ভাবে সরকারী খাস জমি ব্যক্তির নামে খতিয়ান ভূক্ত করা, সব কিছুতেই এখানে ঘুষ লেনদেন হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা সেবাপ্রার্থীদের অনেকটা প্রকাশ্যেই ঘুষের অঙ্ক নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হচ্ছে না সেখানে।
ভুক্তভোগীরা বলেন, অফিস নিয়মে প্রত্যেক ধাপে ঘুষ না দিলে ফাইল নড়ে না। ঘুষ লেনদেনে সহযোগিতা করে দালালচক্র।

২০২৩ সালে মহি উদ্দিন দালাল বাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৪ বছর তিনি দালাল বাজার সকল ধরনের অপকর্ম ছালিয়ে যাচ্ছেন। তার চাহিদা মত চুক্তি না হলে সেবা গ্রহিতাদের পোহাতে হয় বঞ্চনার শিকার। একই ইউনিয়নে দীর্ঘ মেয়াদী কর্মরত থাকায় তহসিলদার মহিউদ্দিন স্বৈরাচারী কয়দায় বিশাল সিন্ডিকেট তৈরী করেন।
দালাল বাজারের আবদুর রহিম নামে এক ব্যবসায়ী তহসিলদার মহিউদ্দিনকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি নিজের নামে জমাখারিজ করে নেয়। জমাখারিজের পরপরই ব্যবসায়ী রহিম সেই সরকারি জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করেন। তখন সে সময়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভি দাশ তাদের কাজ বন্ধ করে দেন এবং জমা খারিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস দেন। একই কাদায় সরকারি জমি দখল করে দালাল বাজার বহুতল ভবন করেন যুবলীগ নেতা টিপু।

অপরদিকে মহাদেবপুর এক মৃত ব্যক্তির জমি তার জীবিত ভাই আবদুর রহিমের নামে জমাখারিজ করে দেন। পরে মৃত ভাইয়ের ওয়ারিশরা জমাখারিজ করতে গেলে দেখেন তহসিলদার অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করে এক ভাইয়ের জমি আরেক ভায়ের নামে জমা খারিজ করে দেন।
স্থানীয় লোক জন জানায়, অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। অনলাইনে আবেদনের পর আবার মূল কাগজপত্র নিয়ে ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে হয়। তখন টাকা না দিলে অনলাইনে ঝুলে থাকে ফাইল।

দালাল চক্রের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জমি নামজারির জন্য অনলাইনে আবেদন করার পর তদন্ত করে ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে নাম প্রস্তাব পাঠানো হয় উপজেলা ভূমি অফিসে। কিন্তু এই নাম প্রস্তাব পাঠানোর জন্য জমি অনুপাতে ১ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়।
ভূমি অফিসে মিস কেইস মামলার তদন্ত এলে তহশিলদারকে দিতে হয় মোটা অংকের টাকা। তাদের ছাহিদা মত টাকা না দিলে মামলার প্রতিবেদনে থাকে গরমিল। বাদী-বিবাদী যে দিকে টাকার পাল্লা ভারী সে দিকেই প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়। এভাবে সেবা নিতে আসা অনেক জমির মালিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
তবে বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে মো: মহিউদ্দীন উদ্দিন বলেন, সরকারি নিয়মের বাইরে এই অফিসের কেউ কোনো টাকা নেন না। এবিষয়ে আমি অবগত নই।