শীর্ষ ৭ নেতার সঙ্গে বৈঠক ব্যস্ত কর্মসূচি

নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী

শীর্ষ ৭ নেতার সঙ্গে বৈঠক ব্যস্ত কর্মসূচি

ফন্ট সাইজ:

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাঁচদিনের সংক্ষিপ্ত সফরে একের পর এক কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় কাটবে তার। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেয়ার পাশাপাশি সাত দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। জলবায়ু ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেবেন। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। পাশাপাশি ওয়াল স্ট্রিট ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা থেকে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে-৭২৫ নামের একটি কমার্শিয়াল ফ্লাইটে রোববার সকালে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা। তার্কিশ এয়ারলাইন্সের বিমানটি ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিট যাত্রাবিরতি দেয়। পরে স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাকে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক হোটেলে নেয়া হয়।

আজ থেকে শুরু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ফার্স্ট লেডি জুবাইদা রহমান।

২৩শে সেপ্টেম্বরও থাকছে একাধিক কর্মসূচি। সকালে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক সভায় বক্তব্য দেবেন। বিকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’— শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন। একইদিন বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক একটি সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি।

শীর্ষ ৭ নেতার সঙ্গে বৈঠক: নিউ ইয়র্ক সফরে সাত দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাঁচদিনের সফরে তুরস্ক, ভুটান, হাইতি, ক্রোয়েশিয়া, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও কুয়েতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী। এরমধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকটি ২২শে সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা। একই দিনে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বুথে হবে এ বৈঠক। একই স্থানে হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিলজ-এমের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বুধবার ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ ভবনে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ২৪শে সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সচিবালয় ভবনের ৩৪তম তলায় এ বৈঠক হবে। একইদিন দুপুরে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। জাতিসংঘের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বুথে এ বৈঠক হবে। সফরের শেষদিন ২৫শে সেপ্টেম্বর কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

২৪শে সেপ্টেম্বর ভাষণ, ব্যস্ততম কর্মসূচি: ২৪শে সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন সকাল থেকে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন। একইদিন বাংলাদেশের আয়োজনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেবেন।

বিকাল ৫টা থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। নিউ ইয়র্ক সময় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তার ভাষণ দেয়ার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিকালের অধিবেশনে ১৮ জন বক্তার মধ্যে ১১তম বক্তা হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি। বক্তব্যের স্বেচ্ছামূলক সময়সীমা ১৫ মিনিট। তবে অধিবেশনের কার্যক্রম অনুযায়ী সময় পরিবর্তন হতে পারে। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে এটাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ। ফলে বাংলাদেশের নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি বিশ্ব শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় সেখানে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। ভাষণ শেষে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব: সফরে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আতোনিউ কোস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেট জাইদ রাদ আল হুসেইনের সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে।

২৫শে সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক কূটনীতিতেও ব্যস্ত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক হোটেল থেকে জেপি মরগানের সদর দপ্তরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত জেপি মরগান আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক করবেন তিনি। ম্যানহাটনের ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা হবে। মেটাসহ আরও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।
সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠকের পর দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গে সম্ভাব্য মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক হোটেলে এই বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক প্রবণতা ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচিও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সব কর্মসূচি শেষে ২৫শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক সময় রাত ১১টায় এমিরেটসের ইকে-২০২ ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৬শে সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় দুবাই পৌঁছানোর পর ছয় ঘণ্টার যাত্রাবিরতি থাকবে। ২৭শে সেপ্টেম্বর রাত ২টায় ইকে-৫৮২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।