দেবিদ্বারে মা ও ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগে ছেলে আটক

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ইমন মিয়া নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মা’কে কুপিয়ে ও ভাতিজিকে আছাড় দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাধা দিতে এলে ভাবী রাবেয়া বেগম (২০)কেও কুপিয়ে আহত করা হয়। রাবেয়াকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাবেয়া বেগম ঘাতক ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার স্ত্রী।

গতকাল সকাল ৮টায় উপজেলার বড়শালঘর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক ইমন মিয়া (২৬)কে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়ে আটক করে রাখে। পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়। নিহতরা হলেন, ঘাতক ইমনের মা পিয়ারা বেগম (৬৫)। অপর নিহত ৮ মাস বয়সী ইসরাত ঘাতক ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার মেয়ে। ঘাতক ইমন মিয়া (২৬) বড়শালঘর গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চার-পাঁচ বছর আগে ইমন ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে ব্যথা পায়। পরে দু’-তিন বছর আগে অপারেশন করার পরও পায়ের ব্যথা বন্ধ হয়নি। গত সোমবার ফের এলাকাবাসীর মাধ্যমে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে পায়ের অপারেশন করানো হয়। গতকাল বিকালে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাড়ি ফিরে। কিন্তু পায়ের ব্যথা বন্ধ হয়নি। পায়ের ব্যথা নিয়ে সকালে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তার মা বাধা দেয়। তখন দা নিয়ে ইমন তার মাকে বলে তাকে মেরে ফেলতে। কিন্তু মা সুস্থ হয়ে যাবি বলে আশ্বাস দেন।

এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মা’কে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় তার ভাবী রাবেয়া বাধা দিলে তাকেও লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এ সময় ভাবীর কোলে থাকা শিশু ইসরাতও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে শিশুটিকে আছাড় দিয়ে মেরে ফেলা হয়। ইমনের বড় ভাই সুজন (৩৫) বলেন, ২০১৮ সাল থেকে পা ভাঙার কারণে ইমন বাড়িতে ছিলেন। তার দুইবার অপারেশন হয়েছে। এরপর থেকে তার মধ্যে মানসিক সমস্যার লক্ষণ দেখা দেয়। সোমবার সকাল ৭টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে খবর পান, মা ও মেয়েকে হত্যা এবং স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ইমনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইমন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আটক ঘাতক ইমনের সঙ্গে কথা বললে সে জানায়, আমার মাথা ঠিক ছিল না। মা’কে বলেছিলাম আমাকে মেরে ফেলতে, তিনি না মারায় আমি তাকে কুপিয়েছি। ভাবী ও ভাতিজিকে মারার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে বলেন, আমার মাথা ঠিক ছিল না আমি কিছুই জানি না। দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক ইমন হত্যার দায় স্বীকার করেছে।