এক কন্যাসন্তানের পর মাত্র তিন দিন আগে কোলজুড়ে এসেছিল ছেলে সন্তান। কিন্তু স্ত্রী ও নবজাতকের হাসপাতাল বিল পরিশোধ করা এবং তাদের ঘরে ফিরিয়ে আনার আর্থিক সামর্থ্য ছিল না। সেই অনটন আর মানসিক চাপে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন আবদুল হালিম (২৯) নামে এক যুবক। সোমবার সকালে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের নিচিন্তা গ্রাম থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আবদুল হালিম ওই এলাকার আমির হোসেনের ছেলে।
জানা গেছে, তিন দিন আগে ছাগলনাইয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান) মাধ্যমে ছেলেসন্তানের জন্ম দেন হালিমের স্ত্রী। স্ত্রী-সন্তানকে হাসপাতালে রেখে রবিবার রাতে বাড়িতে ফেরেন তিনি। সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের সিলিং দিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে তাকে বাঁশের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। খবর পেয়ে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের ভাই আবদুর রউফ কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, হাসপাতাল থেকে স্ত্রী ও নবজাতককে বাড়িতে আনার মতো টাকা ছিল না হালিমের। চিকিৎসার বকেয়া খরচ ও আর্থিক অনটন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই হয়তো এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ছাগলনাইয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, আর্থিক সংকটের কারণে স্ত্রী-সন্তানকে হাসপাতাল থেকে আনতে না পারা এবং অন্যান্য মানসিক চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
