সীতাকুণ্ডে ইউএনও-ওসি’র সিল স্বাক্ষর জাল করে জমির নামজারি

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সরকারি পোর্টালের আদলে ক্লোন ওয়েবসাইট তৈরি করে ভুয়া ডিজিটাল ওয়ারিশ সনদ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। ওই সনদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সিল-স্বাক্ষর জাল করে ৫৭ দশমিক ৪৫ শতক পৈতৃক জমি একক মালিকানা দেখিয়ে নামজারি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সীতাকুণ্ড পৌরসভার শিবপুর এলাকার ১০৪৪৪৬ নম্বরের ওই ডিজিটাল ওয়ারিশ সনদে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মো. ফখরুল ইসলাম, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এবং ওসি মো. মহিনুল ইসলামের সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা এসব স্বাক্ষর তাদের নয় বলে জানিয়েছেন। ওই সনদ ব্যবহার করে শিবপুর মৌজার ১০টি দাগে ০.৫৭৪৫ একর জমি নামজারি করা হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হলে পৌরসভায় অভিযোগ দেয়া হয়। তদন্তে সনদটির কোনো অস্তিত্ব সরকারি পোর্টালে পাওয়া যায়নি বলে পৌরসভা জানায়। পরে জরুরি অফিস আদেশে সনদটিকে ভুয়া ও আইনত অস্তিত্বহীন ঘোষণা করে জমি বিক্রি, রেজিস্ট্রি বা নামজারি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে চিঠি দেয়া হয়। ভুয়া সনদ তৈরি ও ব্যবহারের ঘটনায় মামলা করতে ইউএনও নির্দেশ দিয়েছেন বলে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান।

তার ভাষ্য, মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে নির্দেশের দুইদিন পরও মামলা হয়নি। গতকাল বিকালে মামলার কাগজপত্র প্রস্তুত করে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক মো. মহিউদ্দিনকে মামলা দায়েরের জন্য বলা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি মামলা করবো না। উপস্থিত ভুক্তভোগীপক্ষের আইনজীবীর সামনেও তিনি একই কথা বলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ইউএনও স্যার মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে মহিউদ্দিনকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি মামলা করবেন না বলছেন।’ সরকারি কর্মকর্তাদের সিল-স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি, তা ব্যবহার করে জমির নামজারি এবং মামলা করার নির্দেশের পরও মামলা না হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।