পদকের হাতছানি পুরুষ কাবাডি দলের

একদিনে দুই জয়

পদকের হাতছানি পুরুষ কাবাডি দলের

ফন্ট সাইজ:

দুই দশকের অপেক্ষা কি এবার ঘুচবে? একদিনে দুই জয় সেই সম্ভাবনাই জোরালো করেছে বাংলাদেশের পুরুষ কাবাডি দলের। নাগোয়ার টোকাইদোরি সিটিজেন জিমনেশিয়ামে গতকাল সকালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩৯-৩৫ এবং সন্ধ্যায় চাইনিজ তাইপেকে ৪৮-৪৭ পয়েন্টে হারিয়ে পদকের খুব কাছে পৌঁছে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আজ স্বাগতিক জাপানকে হারাতে পারলেই ২০০৬ দোহা এশিয়ান গেমসের পর আবার পুরুষ কাবাডিতে পদক নিশ্চিত করবে বাংলাদেশ।

সকালের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে জয় পায় বাংলাদেশ। সেই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাত্র ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে সন্ধ্যায় চাইনিজ তাইপের মুখোমুখি হয় মিজান-আল আমিনরা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে একসময় সাত পয়েন্টের লিডও নেয় তারা। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে ফিরে আসে গত এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী চাইনিজ তাইপে। একপর্যায়ে বাংলাদেশের সমান ৩৫ পয়েন্টে পৌঁছে যায় তাইপে। এরপর শুরু হয় স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই। বাংলাদেশের রেইড থেকে পয়েন্ট এলেও বোনাস পয়েন্ট নিয়ে বারবার ব্যবধান কমিয়ে ফেলছিল তাইপে। দুই দলই একাধিকবার রিভিউ নেয়। ফলে ৪০ মিনিটের ম্যাচ গড়ায় এক ঘণ্টারও বেশি সময়ে। ম্যাচের শেষ দিকেও ছিল টানটান উত্তেজনা। বাংলাদেশের ভুল সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে একপর্যায়ে লিডও নেয় চাইনিজ তাইপে। তবে শেষ মুহূর্তে স্নায়ু ধরে রেখে কৌশল ও অভিজ্ঞতায় ম্যাচ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৪৮-৪৭ পয়েন্টের জয় নিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন মিজানুর রহমানের দল। বাংলাদেশের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন দুই রেইডার মিজানুর রহমান ও জুলফিকার। দুজনই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পয়েন্ট এনে দলকে এগিয়ে রাখেন। তবে ডিফেন্সে কিছুটা দুর্বলতা ছিল বাংলাদেশের। রোমান হোসেনের কয়েকটি অপ্রয়োজনীয় ডিফেন্সিভ মুভ থেকে প্রতিপক্ষকে পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তারপরও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া, চাইনিজ তাইপে, জাপান ও ভারত। গ্রুপের শীর্ষ দুই দল খেলবে সেমিফাইনালে। আর সেমিফাইনালে উঠলেই নিশ্চিত হবে পদক। ফলে আজ স্বাগতিক জাপানের বিপক্ষে জয় পেলেই শেষ চার নিশ্চিত করে ২০ বছর পর পুরুষ কাবাডিতে পদক পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের পুরুষ কাবাডি দল সবশেষ পদক জিতেছিল ২০০৬ দোহা এশিয়ান গেমসে- ব্রোঞ্জ। এরপর টানা চার আসরে পদকহীন। দুই দশকের সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ এবার নাগোয়ায়। নারী কাবাডিতে বাংলাদেশের সবশেষ পদক এসেছিল ২০১৪ সালের ইনচন এশিয়ান গেমসে।

মাস দেড়েক আগে কাবাডি ফেডারেশনের পটপরিবর্তনের পর পুরুষ দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন আব্দুল জলিল। দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ এই কোচ মাত্র এক মাসের মতো অনুশীলনের সুযোগ পেয়েই দলকে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। দুই জয়ে সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই বাস্তবতার কাছাকাছি। চাইনিজ তাইপেকে হারানোর পর খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে এশিয়াডে পদক জেতা আব্দুল জলিল বলেন, ‘মাত্র এক মাসের মতো ট্রেনিং করানোর সুযোগ পেয়েছি। এই স্বল্প সময়ে যতটুকু পেরেছি, চেষ্টা করেছি। তারপরও বলবো, আমাদের ডিফেন্সে কিছুটা দুর্বলতা রয়ে গেছে। যে কারণে ম্যাচটা এত হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে।’ জাপান ম্যাচ নিয়ে আশাবাদী এই কোচ। তিনি বলেন, ‘জাপান কিছুদিন আগেও চাইনিজ তাইপে ও দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে। তবে তারা এমন শক্তিশালী দল নয় যে আমরা তাদের হারাতে পারবো না। আমি আশাবাদী, কাল (আজ) জাপানকে হারিয়েই ২০ বছর পর কাবাডির পদক পুনরুদ্ধার করতে পারবো আমরা।’