বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নয়া টুর্নামেন্টে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা পেতে যাচ্ছে ছয় প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, তালিকায় রয়েছে একমি ল্যাবরেটরিজ পিএলসি, ফরচুন গ্রুপ, সিটিজেন ব্যাংক পিএলসি, ব্লুস্টার সার্ভিসেস লিমিটেড, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং সেভেন রিংস সিমেন্ট। ছয় প্রতিষ্ঠানের চারটির সঙ্গে বিসিবি পরিচালকদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ফাহিম সিনহা একমির পরিচালক পদে আছেন। ফরচুনের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন মিজানুর রহমান। সিটিজেন ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্বে আছেন মাসুদুজ্জামান। ব্লুস্টার পরিচালনা করে শানিয়ান তানিমের পরিবার। ওয়ালটন এবং ফরচুনের ক্রিকেট দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
একমি, সিটিজেন ব্যাংক এবং সেভেন রিংস সিমেন্ট দল ও টুর্নামেন্ট স্পন্সর করেছে। বিসিবি তিন বছরের চুক্তিতে দলগুলোর স্বত্ব হস্তান্তর করবে। ছয় দলের মালিকানা চেয়ে গত ১০ই সেপ্টেম্বর আগ্রহপত্র আহ্বান করে বিসিবি। আবেদনের সময় নির্ধারণ করা ছিল ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে সময় শেষ হওয়ার আগেই বিসিবি ছয় দল পেয়ে গেছে। বোর্ড কর্তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দল পরিচালনার কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছেন। দলগুলোকে এক বছরের জন্য বিসিবিকে দিতে হবে আড়াই কোটি টাকা। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধের দায়িত্ব থাকবে বোর্ডের ওপর। এই ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে বিসিবি’র নয়া টুর্নামেন্ট শুরুর পরিকল্পনা।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দলগুলোর নাম ঘোষণা করেনি বিসিবি। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘৬ মালিকানা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ২৪ তারিখ আবেদনের সময় শেষ হলে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।’
দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোয় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। রোববার বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সভাপতিত্বে পরিচালনা পর্ষদের সভায় নয়া এই টুর্নামেন্টটি অনুমোদন পায়। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক কাঠামোর অধীনে তিন সংস্করণে ছয় দল মাঠে নামবে। এখানে চার দিনের ক্রিকেট, ৫০ ওভারের লিস্ট ‘এ’ এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দলগুলো তিন সংস্করণের চাহিদা অনুযায়ী ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গড়বে। এর মাধ্যমে তিন ফরম্যাটে ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ তৈরি হবে। বিসিবি’র পরিচালনা পর্ষদ এই আয়োজনকে ‘একের ভেতর তিন’ টুর্নামেন্ট হিসেবে তুলে ধরেছে। মূলত এনসিএল টি-টোয়েন্টি, বিসিএল ওয়ানডে চার দিনের ক্রিকেটকে নতুন মোড়কে নতুন করে সাজাচ্ছে বিসিবি। জানা গেছে ডিসেম্বর মাসে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে এই প্রতিযোগিতার খেলা শুরু হবে। মাঠে বল গড়ানোর আগে প্লেয়ার্স ড্রাফট আয়োজন করবে বিসিবি।
প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ক্রিকেটারদের দলে নেয়ার সুযোগ পাবে। টি-টোয়েন্টি পর্বের সমাপ্তির পর চার দিনের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা মাঠে গড়াবে। এরপর ৫০ ওভারের লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের। দলগুলো তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে পর্যায়ক্রমে অংশগ্রহণ করবে। মৌসুম শুরুর আগে তিন সংস্করণের ক্রিকেটারদের নিয়ে স্কোয়াড গঠন করতে হবে। এই ব্যবস্থার ফলে খেলোয়াড় তৈরির পাইপলাইন কাজ করবে বলে বোর্ডের ধারণা। ক্রিকেটারদের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বিসিবি।
এই টুর্নামেন্টের কোনো নাম এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে ২৭শে সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলগুলোর মালিকদের নাম ঘোষণার সিদ্ধান্ত রয়েছে। অনুষ্ঠানে দলগুলোর মালিকানা হস্তান্তর ছাড়া অন্যান্য তথ্যের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হবে। এই কাঠামো চালুর ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ (বিসিএল) আর অনুষ্ঠিত হবে না। এতদিন জাতীয় ক্রিকেট লীগ (এনসিএল) প্রতিযোগিতার পাশাপাশি চার দলের বিসিএল আয়োজিত হতো। বিসিবি এখন চার দিনের ম্যাচ, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি আসর এক কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসছে। এনসিএল টি-টোয়েন্টি এবং বিসিএল ওয়ানডেকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। দেশের ক্রিকেটের টুর্নামেন্টগুলোকে সমন্বয়ের লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিসিবি। প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খেলোয়াড় তৈরির পাইপলাইন গঠনের লক্ষ্য রয়েছে বোর্ডের।
