চাঁপাইনবাবগঞ্জে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ প্রশাসন ডেঙ্গুর ভয়ে শহরবাসী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ প্রশাসন ডেঙ্গুর ভয়ে শহরবাসী

ফন্ট সাইজ:

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ক্রমাগত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। হাসপাতালে বাড়ছে ভিড়। মানুষ বন্দি হয়ে পড়েছে ডেঙ্গুর মরণফাঁদে। কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এবং লোক দেখানো উদ্যোগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যেও এর প্রতিফলন স্পষ্ট—ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী।

চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। কীটতত্ত্ব জরিপেও চাঁপাইনবাবগঞ্জকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমন উদ্বেগজনক বাস্তবতার মুখেও স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার কার্যক্রম সেই পুরোনো বৃত্তেই আবদ্ধ। লোক দেখানো পরিচ্ছন্নতা অভিযান আর কাগুজে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির বাইরে বাস্তবমুখী ও সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। মাঠপর্যায়ে মশক নিধন কর্মীদের তদারকির অভাবে ওষুধ প্রয়োগে যে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে, তার দায়ভার এখন সাধারণ মানুষকেই চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। মশক নিধনে বছরে ৩৭ লাখ টাকার বাজেট আর ডেঙ্গু সচেতনতার বিজ্ঞাপনের ভিড়ে প্রাণ হারানোর মিছিল কমছে না। চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু এখন সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য সংকট। এডিস লার্ভা শনাক্তকরণ, ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি এবং জনসাধারণকে এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা না গেলে, ডেঙ্গু ঢেউ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। কেবল প্রেস ব্রিফিং বা সতর্কবার্তায় ডেঙ্গু থামবে না। সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কীটতত্ত্ব জরিপে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৩৬ শতাংশ বাড়িতেই এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বকে চিহ্নিত করা হয়েছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে। জরিপে মোট ১৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যার মধ্যে ৫৪টি বাড়িতেই এডিস মশার লার্ভা ও পিউপার অস্তিত্ব মিলেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মসজিদপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, নিউ ইসলামপুর, উদয় সংঘের মোড়, চরজোতপ্রতাপসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর সংক্রমণ সব চেয়ে বেশি। জেলা হাসপাতালের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২১শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩২৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই হাসপাতালে মৃত্যুর কোনো তথ্য নেই। কারণ ২৫০ শয্যার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক ডেঙ্গু রোগীর জন্য নেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)।

ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হলেই উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এই সময়ে ৮১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। তবে এরমধ্যে কতোজন মৃত্যু হয়েছে সেই তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে নেই। তবে রেফার্ড করা ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু স্থানীয় সূত্র বলছে, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি। জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, যেসব এলাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণ বেশি সেসব এলাকায় এরইমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। এটি আরও বেগবান করতে পৌর এলাকায় ৮টি টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমের সদস্যরা মশক নিধন অভিযান তদরকি করবেন। আমরা আশা করছি শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।