তেলের দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে প্রতি লিটারে ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাজধানীর নয়াপপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় এখনো বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম। আর তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প প্রস্তাব না দিয়ে লংমার্চ করছে বিরোধী দল। যে ভাষায় তারা কথা বলছে, তা সমীচীন নয়। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট কাটাতে সরকার জোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বিরোধীরা জনগণের কান ভারী করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করছে। এক দফা কর্মসূচি দিলে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো করে প্রতিহত করবে না বিএনপি। গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে সন্ত্রাস প্রতিহত করা কঠিন কিছু নয়।
বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনগুলো পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টার বিরুদ্ধে মিছিল, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে বলেও জানান রিজভী। তিনি বলেন, প্রশাসনের ভেতরে থেকেও কেউ কেউ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সেগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট মাত্র ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিউ ইয়র্কে গেছেন, যার মধ্যে সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক নেতারাও আছেন। এত ছোট প্রতিনিধি দল পাঠানোর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে বিএনপি সরকার ও দলীয় প্রধান কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে চান। জাতিসংঘ অধিবেশনের এই সফরটি দেশের অর্থনীতি রক্ষায় সেই দায়িত্বশীল পদক্ষেপের আরেকটি বড় দৃষ্টান্ত।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে, ফ্যাসিস্ট সরকার প্রধানের যুক্তরাষ্ট্র অথবা অন্য কোনো দেশে সফরের সময় কোটি কোটি টাকা অপচয় করে সংবর্ধনা বা রিসেপশনের আয়োজন করা হতো। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সে ধরনের কোনো জমকালো রিসেপশন আয়োজন সম্পূর্ণভাবে নিষেধ করে দিয়েছেন।
এসময় বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
