যৌন নির্যাতন: ইন্দোনেশীয় দণ্ডিত শিক্ষককে গোপনে আগাম মুক্তি

যৌন নির্যাতন: ইন্দোনেশীয় দণ্ডিত শিক্ষককে গোপনে আগাম মুক্তি

ফন্ট সাইজ:

ইন্দোনেশিয়ার একটি ইসলামি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত এক শিক্ষক। তাকে জেল দিয়েছিলেন বিচারক। তারপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। কিন্তু কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গোপনে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। বিবিসি আইয়ের এক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে। অভিযুক্ত মোচ সুবচি আজাল সানি ধর্মীয় প্রভাবশালী এক নেতার ছেলে। তার বিচার ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশটিতে লাখ লাখ অভিভাবক তাদের সন্তানদের ইসলামি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে পাঠান।

২০২২ সালে পূর্ব জাভায় তার বাবার পরিচালিত একটি স্কুল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গ্রেপ্তার করতে প্রায় ১ হাজার দাঙ্গা পুলিশ নিয়ে ১৫ ঘণ্টার অবরোধ চালাতে হয়েছিল পুলিশকে। পরিবারটির সমর্থকরা বিপুলসংখ্যায় জড়ো হয়ে তার গ্রেপ্তার ঠেকানোর চেষ্টা করেন। ওই বছরের শেষ দিকে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। সরকার স্কুলটির পরিচালনার লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছিল। তবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো হস্তক্ষেপ করে স্কুলটি চালু রাখার ব্যবস্থা করেন।

তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, ঘটনাটি একজন ব্যক্তিকে ঘিরে, প্রতিষ্ঠানটিকে নয়। তবে বিবিসির অনুসন্ধানে মোচ সুবচি আজাল সানির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ এবং সেগুলো ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্কুল ও তার পরিবারের চেষ্টা সংক্রান্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে বেচির আগাম মুক্তি দেয়ার ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ন্যাশনাল কমিশন অন ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন ইসলামি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন সহিংসতার ‘জরুরি পরিস্থিতি’ তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে। কমিশন বলেছে, ধর্মীয় নেতাদের ক্ষমতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠান নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও নির্যাতনের অভিযোগ করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে।