মুষলধারে বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। কোথাও হাঁটু পানি তো, কোথাও আরও বেশি। ছয় ঘণ্টায় ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বৃষ্টি থেমে গেলেও দুপুর পর্যন্ত ঢাকার অনেক সড়ক থেকেই নামেনি পানি। যানবাহন চলাচলে বাধা, অফিস কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামীরা ভোগান্তিতে পড়েন জলাবদ্ধতার কবলে। জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।
শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার পর থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত ঢাকার আকাশ ছিল মেঘলা। থেমে থেমে হয়েছে বৃষ্টি। অথচ শনিবার দেশের ১২ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। বৃষ্টির পূর্বে রাজধানীতে তাপপ্রবাহ না থাকলেও ছিল প্রচণ্ড গরম। শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে দেয়নি এতটা বৃষ্টির পূর্বাভাস। রোববার সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ঢাকার পাশের শহর নারায়ণগঞ্জে, ৮২ মিলিমিটার। আর মাদারীপুরে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কিছুটা নিষ্ক্রিয় থাকা মৌসুমি বায়ু হঠাৎ সক্রিয় হয়ে গেছে। আর এ কারণেই এই বৃষ্টি।
ওদিকে, মুষলধারে বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা যেমন- পুরানা পল্টন, খিলগাঁও কমিউনিটি সেন্টারের সামনে, মালিবাগ রেলগেট বাজারের সামনে, মৌচাক মোড়ে, মগবাজার সেঞ্চুরি মোড়ে, রাজারবাগ, আরামবাগ, ঢাকা মেডিকেল, দক্ষিণ মণিপুর মোল্লাপাড়া, পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়া বর্ডার বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় পানি জমেছে। একদিকে অফিস-আদালতে যাওয়ার সময় মুষলধারে বৃষ্টি, আরেকদিকে জলাবদ্ধতা; সবমিলিয়ে নাকাল অবস্থায় পড়ে যান নগরবাসীরা। পানি মাড়িয়ে স্কুল, কলেজ ও কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে মানুষকে। জলাবদ্ধতার পানি ঢুকে পড়ে বিভিন্ন দোকানপাট ও মার্কেটেও। এতে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বেচাকেনা ব্যাহত হয়েছে। অনেক দোকানপাট দুপুর পর্যন্ত বন্ধ দেখা গেছে। নিউমার্কেটের সামনের সড়কসহ নিউমার্কেটের ভেতরের রাস্তায়ও পানি জমেছে। ফলে মার্কেটের ভেতরের রাস্তা ও দোকানের বারান্দায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যেসব মালামাল রেখেছিলেন সেগুলোর অনেকই বৃষ্টির পানিতে ভিজে যায়।
নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, একটু বৃষ্টি বেশি হলেই আমরা মার্কেটে ছুটে আসি। কারণ পানি দোকান পর্যন্ত ঢুকে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে পারেন না। ফলে বেচাকেনা বন্ধ থাকে। শুধু তাই নয়, মালামাল এদিক-সেদিক সরানো, পানি নামলে ফের গোছগাছ করার ভোগান্তি তো আছেই।
সকালে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হয়েছেন সাহাবউদ্দিন। মগবাজারের ইস্পাহানি স্কুলে যাবেন। সাহাবউদ্দিন বলেন, আধঘণ্টা অপেক্ষা করছি, বৃষ্টি থামছে না। বৃষ্টির বেগ তো বেশি, ছাতা দিয়ে কুলাবে না। বাসা থেকে স্কুল পর্যন্ত রিকশায় যাওয়া যাবে, কিন্তু বৃষ্টি না থামলে যাওয়া যাচ্ছে না। হাসানুর রহমান নামের একজন ব্যাংকার বলেন, হঠাৎ ভোর রাতে ঠাণ্ডা বাতাসে ঘুম ভেঙে গেলে দেখি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বেলা ১০টার সময়েও মতিঝিলে পানি পুরোটা নেমে সারেনি। রিকশায় এসে এখন ব্যাংকের গেটে জুতা ভেজাতে হলো।
ওদিকে মুষলধারে বৃষ্টির ফলে রাজধানীতে সৃষ্ট সাময়িক জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রোববার দুপুরে দোয়েল চত্বর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, পলাশী মোড় ও নিউমার্কেট এলাকাসহ জলাবদ্ধ বিভিন্ন স্থান সরজমিন পরিদর্শন করেন ডিএসসিসি’র প্রশাসক। নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে ভোর থেকেই ডিএসসিসি’র পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম মাঠে নামে। ড্রেনের মুখ পরিষ্কার, জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন কাজ অব্যাহত রেখেছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ডিএসসিসি।
সরজমিন পরিদর্শন করে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ফজরের সময় থেকেই কর্মীদের পুরোপুরি কাজে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও তা শতভাগ বাস্তবায়িত হয়নি। সারারাত বৃষ্টির কারণে পরিচ্ছন্নতার স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়েছিল ঠিকই, তবে বৃষ্টি কমার পর কর্মীদের যে গতিতে কাজে নামার কথা ছিল, তাতে কিছুটা গাফিলতি দেখা গেছে।
লঘুচাপের প্রভাবে তিনদিন বৃষ্টির আভাস, বাড়তে পারে নদীর পানি: গতকাল বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাসে বলা হয়, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী তিনদিন দেশের অভ্যন্তরে ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দুইদিন দেশের অভ্যন্তরে ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী এবং তৃতীয় দিন মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
