দেশে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যু থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাম প্রতিরোধে সরকার দফায় দফায় বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইনেরও আয়োজন করে আসছে। দেশে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া এবং নতুন করে টিকাদানের বয়সে আসা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর থেকে ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এসব শিশুকে হামের টিকা দেয়া হবে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ২৩৬ জন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ই মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৫৭। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে দুইজন, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে একজন করে মারা গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৪৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭৯ হাজার ৮১৪ শিশু। এ ছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮ জন। এনিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৬২ জনে।
২৬শে সেপ্টেম্বর থেকে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন, টার্গেট ৩৪ লাখ শিশু: দেশে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া এবং নতুন করে টিকাদানের বয়সে আসা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর থেকে ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এসব শিশুকে হামের টিকা দেয়া হবে। গতকাল সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২৬শে সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে একযোগে এ বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। শুরুতে কার্যক্রমটি এক মাস চালানোর কথা বলা হলেও পরে ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত সময় ধরে কর্মসূচি চালানোর কথা জানান তিনি।
এ সময় শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার অপেক্ষায় না থেকে গ্রামের ভেতরে গিয়ে শিশুদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রয়োজনীয় টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। হাতে থাকা টিকা ও নতুন করে পাওয়া টিকা মিলিয়ে মোট ৫৮ লাখ ডোজের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, টিকার অপচয় হিসাব করার পরও প্রায় ৫২ লাখ ডোজ থাকবে। এর বিপরীতে বিশেষ কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন হবে প্রায় ৩৪ লাখ ডোজ। ফলে ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পরও হাতে টিকা থাকবে এবং সেই টিকা ব্যবহার করে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করার কাজ অব্যাহত রাখা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশেষ কার্যক্রম শুরুর দিন কোনো শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ না হলে তাকে তখন টিকা দেয়া সম্ভব হবে না। কিন্তু কয়েক দিন পরই সেই শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হতে পারে।
এ কারণে এমন শিশুদেরও পরবর্তী সময়ে টিকার আওতায় আনার জন্য নজরদারি রাখা হবে। একটি শিশুও যেন টিকাবিহীন না থাকে, সে লক্ষ্যেই এবার কার্যক্রমটি গভীরভাবে মনিটরিং করা হবে। কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, সুপারিনটেনডেন্ট, ইউএইচএফপিও এবং ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সম্পৃক্ত থাকবেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন। গণমাধ্যমকর্মীদেরও কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান সন্ত্রী।
