প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শহীদ মুগ্ধ’র পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শহীদ মুগ্ধ’র পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ

ফন্ট সাইজ:

প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ’র পরিবারের সদস্যরা। সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট শহীদ পরিবারগুলোর সার্বিক কল্যাণ, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন। গতকাল বঙ্গভবনে সাক্ষাতে শহীদ মুগ্ধ’র পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ও পরিবারের সদস্য মাহফুজা জাফরিন আরিবা উপস্থিত ছিলেন বলে প্রেসিডেন্টের প্রেস উইং থেকে জানানো হয়।

প্রেস উইং জানায়, এ সময় প্রেসিডেন্ট মুগ্ধ’র পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সাক্ষাতে পরিবারের সদস্যরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। তারা শহীদ ও আহতদের পরিবারের কল্যাণে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমগুলো যথাযথ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান। এ সময় তারা গেজেট প্রজ্ঞাপনে প্রকাশিত ৮৪৫ জন জুলাই শহীদের নাম খচিত জুলাই ‘শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের’ একটি রেপ্লিকা প্রেসিডেন্টকে উপহার দেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, জাতি তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না। প্রেসিডেন্ট শহীদ পরিবারগুলোর সার্বিক কল্যাণ, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও চিরশান্তি কামনা করেন।

ওদিকে, গতকাল বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ’র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। প্রেসিডেন্টের প্রেস উইং জানায়, সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশ-বিদেশের কর্মসংস্থানের চাহিদা উপযোগী করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম প্রস্তুত করতে হবে, যাতে অযথা বেকার সৃষ্টি না হয়।

সাক্ষাতে উপাচার্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মমুখী শিক্ষা, সিলেবাস পরিবর্তন ও সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা, পেশাগত সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থার উন্নয়নে সহযোগিতা কামনা করেন। তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কৃত্রিমভাবে পাসের হার বৃদ্ধি করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

অন্যদিকে, রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশনের ২৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

এ সময় ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন খান বার এসোসিয়েশনের নিজস্ব ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে জমি বরাদ্দের জন্য প্রেসিডেন্টের সহযোগিতা কামনা করেন। এ ছাড়া, সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল মতিন দেশের কর আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ, সমস্যা ও সুবিধাদি দেখার জন্য ট্যাক্সেস বার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রেসিডেন্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশের রাজস্ব আহরণে কর আইনজীবীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় যারা আয়কর দেয়ার যোগ্য, তারা যেন আয়কর দেন- তা নিশ্চিত করতে বলেন তিনি। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট কর আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কোস্ট গার্ড মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ: প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান। রোববার সকালে বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের প্রেস উইং।

সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট উপকূলীয় এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষা, মাদক, চোরাচালান ও মানব পাচার রোধ, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা ও পানি দূষণ রোধে কোস্ট গার্ডকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় কোস্ট গার্ডকে একটি আধুনিক ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যে সরকার বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সদস্যদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় দেশের সমুদ্রসীমায় অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধে কোস্ট গার্ডকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সাক্ষাতে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক বাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্রম এবং বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন পেট্রোল বোট ও আধুনিক রেসকিউ হেলিকপ্টার সংগ্রহ এবং এভিয়েশন উইং স্থাপনের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। একইসঙ্গে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক দায়িত্ব পালনে প্রেসিডেন্টের সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় প্রেসিডেন্ট তাকে বাহিনীর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।